আইআইটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। তিনটি বাড়ির মালিক। বার্ষিক আয় কোটি টাকা। তা সত্ত্বেও আয়কর জমার জন্য ১৫ হাজার টাকা ধার করলেন তরুণ। তেমনটাই দাবি করে হইচই ফেললেন তাঁর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ)। আয়কর জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে ওই সিএ-র করা পোস্ট সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি এমন এক আইআইটির প্রাক্তনী মক্কেলের কথা শেয়ার করেছেন, যিনি কাগজে-কলমে ধনী হলেও বাস্তবে নগদ টাকা নিয়ে তীব্র আর্থিক সঙ্কটের ভুগছিলেন।
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যম এক্স-এ ভাইরাল হওয়া এক পোস্টে সিএ প্রতিভা গয়াল জানিয়েছেন, তিনি আইআইটি থেকে পড়াশোনা করা এক তরুণের আয়কর সংক্রান্ত কাজকর্ম দেখাশোনা করেন। বিগত পাঁচ বছর ধরে বছরে কোটি টাকা আয় করছেন ওই তরুণ। বিপুল বেতনের পাশাপাশি তাঁর মক্কেলের তিনটি বাড়িও রয়েছে, যার মধ্যে দু’টির নির্মাণকাজ চলছে। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ১৫,০০০ টাকার বকেয়া কর মেটানোর মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ তাঁর মক্কেলের কাছে ছিল না বলেই জানিয়েছেন প্রতিভা। তাই তরুণ অগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধও করেছেন তাঁর কাছে। তেমনটাই দাবি করেছেন প্রতিভা।
এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘‘এই মাত্র আমার এক আইআইটি-পড়ুয়া মক্কেলের আইটিআর ফাইল করলাম। তিনি একজন তরুণ, যিনি গত ৫ বছর ধরে কোটি টাকারও বেশি প্যাকেজে কাজ করছেন। তাঁর তিনটি বাড়ি আছে, যার মধ্যে দু’টির কাজ এখনও চলছে। তরুণ আমাকে বলেছিলেন যে ১৫ হাজার টাকা কর দেওয়ার মতো টাকা তাঁর কাছে নেই এবং তিনি চেয়েছিলেন আমি যেন অগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করি, যাতে বেতন পাওয়ার পর আমরা করের টাকাটা জমা দিতে পারি।’’
আরও পড়ুন:
প্রতিভা উল্লেখ করেন, সময়সীমা পার হওয়ার পর কর জমা দিলে অতিরিক্ত সুদ গুনতে হত। এমন পরিস্থিতি এড়াতে ওই মক্কেল ধার করে কর জমা দেন এবং আইটিআর ফাইল করেন। এই ঘটনাটি দেখে গয়াল মন্তব্য করেন যে, দেশে আর্থিক সাক্ষরতার খুব প্রয়োজন। প্রতিভার কথায়, ‘‘তরুণ পরে কর জমা দেওয়া এবং আইটিআর ফাইল করার জন্য টাকা ধার করেন, কারণ অগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করলে অতিরিক্ত সুদ দিতে হত। আমাদের দেশে আর্থিক সাক্ষরতার বিষয়টি এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে!’’
আরও পড়ুন:
প্রতিভার পোস্টটি ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। বহু নেটাগরিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভিডিয়োটি। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার দাবির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, আইআইটির প্রাক্তন পড়ুয়া মানে যে ভুল আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তেমন কোনও মানে নেই। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘‘বিশ্বাসই হচ্ছে না যে, জটিল অঙ্ক করতে দক্ষ আইআইটি প্রাক্তনী নিজের আয়-ব্যয়ের হিসাব সামলাতে পারলেন না।’’ অন্য এক জন আবার যোগ করেছেন, ‘‘আমিও এমন অনেককে চিনি। তাঁদের প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাতে নগদ অর্থ (ক্যাশ) নেই। তাঁদের আর্থিক বিষয়ে কোনও বোঝাপড়া বা জ্ঞানই নেই।’’