Advertisement
E-Paper

১০০ বছর পার করেও তরুণদের মতো তরতাজা! ‘বিশেষ’ পানীয়েই লুকিয়ে দীর্ঘায়ু-রহস্য? বৃদ্ধের দাবিতে হইচই নেটপাড়ায়

কী খাচ্ছেন, সে বিষয়ে শিজেং বেশ সচেতন। প্রতি পাঁচ দিন অন্তর রিকশায় চড়ে বাজারে যান তিনি। সেখান থেকে মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়া-সহ নানা ধরনের সামুদ্রিক খাবার, শূকরের মাংস এবং শাকসব্জি কেনেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৫
Internet is talking about 101 year old Chinese man’s discipline and routine

ছবি: প্রতীকী।

বয়স ১০০ পার করেছেন। তার পরেও দৈনন্দিন রুটিনের নিরিখে স্বাস্থ্যসচেতন তরুণদের অবাক করে দিতে পারেন চিনের বৃদ্ধ লু শিজেং। প্রচুর পরিমাণে নরম পানীয় পান করে, নিয়মিত সামুদ্রিক খাবার খেয়েও ১০১ বছরে সুস্থ রয়েছেন তিনি। যদিও রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোনোর অভ্যাস রয়েছে তাঁর। শিজেং ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলিতে হইচই ফেলে দিয়েছেন।

চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা শিজেং। শতায়ু এই বৃদ্ধ তাঁর প্রথাবহির্ভূত অভ্যাস এবং চমৎকার স্বাস্থ্যের কারণে নেটপাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। চিনা সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নরম পানীয়ের প্রতি লু-র এই আসক্তি তাঁকে চিনের তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা থেকে আলাদা করে তুলেছে। কারণ, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে কম চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যচর্চার প্রবণতা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বয়স অনেক হলেও, কী খাচ্ছেন, সে বিষয়ে শিজেং বেশ সচেতন। গ্রামে বসবাসকারী এই বৃদ্ধ প্রতি পাঁচ দিন অন্তর রিকশায় চড়ে স্থানীয় বাজারে যান। সেখান থেকে মাছ, চিংড়ি ও কাঁকড়া-সহ নানা ধরনের সামুদ্রিক খাবার, শুয়োরের মাংস এবং শাকসব্জি কেনেন। গত বছর পর্যন্ত তিনি নিজেই ট্রাইসাইকেল চালিয়ে বাজারে যেতেন। তবে, একবার পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার পর পরিবারের অনুরোধে তিনি এখন আর ট্রাইসাইকেল চালান না।

শিজেং তাঁর জমানো অর্থের একটি বড় অংশ খাবারের পিছনে ব্যয় করেন। তাঁর দুই ছেলে, যাঁদের এক জন বেজিঙে থাকেন এবং অন্য জন কাছেই একটি কারখানা চালান, তাঁরা বৃদ্ধের দেখাশোনার জন্য একজন পরিচর্যাকারীর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ওই পরিচর্যাকারীর দাবি, শিজেং এই বয়সেও সব রকমের সুস্বাদু খাবার খান। খাবারের পরিমাণও থাকে অনেকটা। এক বেলাতেই অর্ধেক বাটি ভাত এবং পুরো এক প্লেট কাঁকড়া খেয়ে ফেলতে পারেন তিনি। তাঁর ফ্রিজও সব সময় নরম পানীয়তে ভরা থাকে। তবে ঠান্ডা নরম পানীয়ের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা হোয়াইট ওয়াইন মিশিয়ে পান করতে তিনি বেশি ভালবাসেন। এ ছাড়া তরমুজ, নাশপাতি ও ম্যান্ডারিনের মতো মিষ্টি ফলগুলিও তাঁর খুব প্রিয়।

খাবারের পছন্দের বাইরেও শিজেঙের দৈনন্দিন রুটিন বেশ সুসংগত। তিনি বিকেল ৫টার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নেন এবং সাধারণত রাত ৮টা নাগাদ ঘুমাতে যান। ভোর ৪টায় আবার উঠে পড়েন। তবে, বিছানায় শুয়ে আরও ঘণ্টা দুয়েক কাটান ব্যায়াম করার জন্য। এর পর সকাল ৬টায় বিছানা ছাড়েন। দিনের বেলায় কিছুক্ষণ ঘুমোনোও তাঁর রুটিনের অংশ।

১০০ বছর পেরিয়েও নিজের স্বাস্থ্যের জন্য গর্ববোধ করেন শিজেং। তিনি জানান পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার পরও তিনি ভাল ভাবে সেরে উঠেছেন এবং মানসিক ভাবে এতটাই সজাগ যে, তরুণ বয়সের স্মৃতি এখনও মনে করতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, তাঁর খুব একটা সর্দি-কাশি হয় না এবং রক্তচাপও তুলনামূলক ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শতায়ু এই বৃদ্ধ তাঁর বয়সের স্বীকৃতিস্বরূপ মাসিক ভাতাও পান সরকারের থেকে। ঝেজিয়াং প্রদেশে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি ব্যক্তিরা প্রতি মাসে ৮০০ ইউয়ান (প্রায় ১২০ মার্কিন ডলার) পান। ৯০ থেকে ৯৯ বছর বয়সিরা পান ১০০ ইউয়ান।

নরম পানীয়, সামুদ্রিক খাবার এবং সুশৃঙ্খল ঘুমই কি শিজেঙের দীর্ঘায়ু হওয়ার রহস্য? এই নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে চিনের নেটপাড়া। যদিও অধিকাংশের মতে, প্রফুল্ল মন এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসই তাঁর দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবনের কারণ।

China Old Man

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy