নব্য তরুণ প্রজন্মের পর এ বার বিক্ষোভে কচিকাঁচারা। সড়ক নির্মাণের দাবিতে রাস্তায় নামল স্কুলপড়ুয়া এক দল খুদে। উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার ছাত্রছাত্রীদের এই প্রতিবাদ ইতিমধ্যেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাদের দাবি একটাই, চান্দুপুর থেকে হামিরপুরে তাদের স্কুল পর্যন্ত একটি রাস্তার। আর স্কুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের সেই দাবিতে হাতে পোস্টার এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মঙ্গলবার ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ পালন করতে দেখা যায় তাদের। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
হামিরপুরে খুদে স্কুলপড়ুয়াদের বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তাদের বাবা-মা এবং গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরাও। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে জেলাশাসকের অফিস পর্যন্ত গিয়ে প্রতিবাদ জানান তাঁরা। জেলাশাসকের কার্যালয়ের মূল প্রবেশপথের সামনে বসেও পড়েন। চলতে থাকে স্লোগান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে তাঁদের গ্রামে যাওয়ার মতো কোনও রাস্তা তৈরি করা হয়নি। বর্ষাকালে মাটির রাস্তাটি জলে ডুবে যায়। ফলে গ্রামটি বাইরের জগৎ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ছাত্রছাত্রীদের দাবি, স্কুলে পৌঁছোনোর জন্য বাধ্য হয়ে কাদা-জলের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হয় তাঁদের।
আরও পড়ুন:
এক খুদে বিক্ষোভকারীর কথায়, ‘‘কাদা-জলে আমাদের স্কুলের ইউনিফর্ম নোংরা হয়ে যায়। জুতো নষ্ট হয়ে যায়। আমরা অতীতেও বহু বার এই বিষয়টি তুলে ধরেছি। কিন্তু আমাদের দাবিতে কেউ কর্ণপাত করেননি। এক-দু’সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েই চলেছে প্রশাসন। কিন্তু কোনও অগ্রগতিই হয়নি।’’ অন্য এক বিক্ষোভকারী ছাত্রীর দাবি, রাস্তার অভাবে তাকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছে। পাকা রাস্তার অভাবে ছাত্রছাত্রীদের দুর্দশা তাদের তৈরি পোস্টারগুলিতেও ফুটে উঠেছে। একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘‘রাস্তা না থাকলে রোজগার হয় না। রাস্তা না থাকলে ছাত্রজীবনই বৃথা।’’
আরও পড়ুন:
সহকারী জেলাশাসক অভিষেক কুমার এবং সার্কেল অফিসার ইতিমধ্যেই বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রী এবং তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বিষয়টি নিয়ে। বিক্ষোভকারীরা প্রথমে জানিয়েছিলেন যে রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। তবে, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়ার পর প্রতিবাদ প্রত্যাহার করা হয় খুদে পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকদের তরফে।
নব্য তরুণ প্রজন্মের মতোই পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিবাদ ‘আরশোলা’দের থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। খুদে বিক্ষোভকারীদের জেলাশাসকের দফতরের বাইরে বসে থাকার একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)’ প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা এই বাচ্চাদের কুর্নিশ! তারা শুধু তাদের স্কুলে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা চাইছে। স্বাধীনতার প্রায় ৮০ বছর পর এটা কি খুব বেশি চাওয়া? এটা কয়েক দশক আগেই করা উচিত ছিল।’’ সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাসও ভিডিয়োটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘শাবাশ।’’ উল্লেখ্য, সিজেপি-র তরফে স্বাধীনতা দিবসে গ্রামের সরকারি স্কুলগুলির উন্নতির জন্য একটি অভিযান শুরু করার ডাক দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
হামিরপুরে রাস্তার দাবিতে খুদে পড়ুয়াদের বিক্ষোভমিছিল ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটাগরিকদের অনেকে ভিডিয়োটি দেখে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। খুদেদের সাহসিকতার প্রশংসাও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘জেন জ়ি (এটি আদতে মার্কিন বিপণন সংস্থার তৈরি করা সংজ্ঞা, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।)-র পর এ বার জেন আলফা (একই ভাবে ২০১২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়)-র বিক্ষোভ। খুদে পড়ুয়াদের নিজেদের অধিকারের জন্য লড়তে দেখে ভাল লাগছে।’’