জন্মদিনে মা-বাবা উপহারে ভরিয়ে দেয়। তাই ছয় বছরের বালিকারও শখ হল মাকে জন্মদিনের উপহার দেওয়ার। মায়ের পছন্দের জিনিস গয়না। সেটি জানা ছিল বালিকার। তাই সঞ্চিত ১০০ টাকা নিয়ে গয়নার দোকানে চলে গেল খুদে। তার পর যা ঘটাল তা শুনে অবাক মা-বাবা। খানিক আপ্লুতও বটে। সেই ঘটনাই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমের পাতায়।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, বালিকাকে নিয়ে তরুণ-তরুণী জন্মদিনের আগে একটি প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন। সেখানে মা-বাবা যখন ঘুরে দেখতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তাঁদের চোখের আড়ালে ছয় বছরের অন্যা সেখানকার গয়নার দোকানগুলি ঘুরে দেখতে শুরু করে। ১০০ টাকা নিয়ে সমস্ত গয়নার দোকানে ঘুরতে থাকে বালিকা। বিশেষ এক দোকানের কর্মীদের নজরে পড়ে। তাঁরা বালিকাকে নিজেদের দোকানে ডেকে নেন। সেখানে অন্যা জানায় যে তার মায়ের জন্মদিনের উপহার কিনতে চায় সে।
আরও পড়ুন:
আজকালকার বাজারে যে ১০০ টাকায় তেমন নজরকাড়া কিছু পাওয়া যায় না সেই ধারণা নাবালিকার ছিল না। অন্যা দোকানদারকে জানায় তার কাছে কত টাকা আছে। এরই সঙ্গে টাকা কম পড়লে নিজের আঁকা একটি ছবিও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সে। দোকানদার বালিকার কথা মেনে নেন। ১০০ টাকা এবং অন্যার হাতে আঁকা ছবির পরিবর্তে তাঁরা তাঁকে একটি সরু রুপোর চেন দিয়ে দেন। মায়ের জন্য উপহার পেয়ে আনন্দে ফেটে পড়ে অন্যা। বাড়ি ফিরে মাকে সেই উপহার দিয়ে দেয় সে।
আরও পড়ুন:
মেয়ের থেকে রুপোর চেন পেয়ে আকাশ ভেঙে পড়ে মায়ের মাথায়। মেয়ের কাছে পুরো গল্প শুনে লজ্জায় পড়ে যান তরুণী। তড়িঘড়ি সেই গয়নার দোকানের সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর পর যা হয়, তা তরুণী নিজেই বিশ্বাস করে উঠতে পারেননি। সেই গয়নার দোকান থেকে একটি টাকাও না নেওয়ার কথা জানানো হয়। তাঁরা অন্যার প্রশংসা করে জানান বালিকা খুবই মিষ্টি। সে তাঁদের সঙ্গে দর কষাকষি করে চেনটি কিনে নিয়ে গিয়েছে। সেই কারণে আর এক টাকাও তাঁরা নেবেন না।
আরও পড়ুন:
‘ধ্রুব তলোয়ার’ নামের লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে ঘটনাটি পোস্ট করা হয়েছে। উক্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন যে তাঁর বোনের সঙ্গে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি তাঁকে এ ব্যাপারে জানিয়েছেন। পোস্টটিতে প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। নাবালিকার কাণ্ড মনে ধরেছে নেটাগরিকদের। বহু নেটাগরিক সেই গয়নার দোকানের কর্মীদেরও প্রশংসা করেছেন।