ছুটি কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফাঁকাই ছিল। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখেই থ হয়ে গেলেন এক দম্পতি। দেখলেন, তাঁদের বাড়িতে বাস করছেন এক অপরিচিত ব্যক্তি। মুহূর্তেই ছড়াল চরম আতঙ্ক। ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার কুইন্সে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুইন্সের লং আইল্যান্ডে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল ওই দম্পতির। সম্প্রতি ইয়েলোস্টোন জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সে সময় বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন এক অপরিচিত নারী। সিসি ক্যামেরায় তাঁকে দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দম্পতি। অভিযোগ, অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তারক্ষী ভুলবশত ওই অজ্ঞাতপরিচয় মহিলাকে চাবিটি দিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই বিল ও ইয়েলিম কিম নামের দম্পতি যখন বাইরে ছিলেন, তখন তাঁদের বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে একটি সতর্কবার্তা আসে যে তাঁদের পারভেস স্ট্রিটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরে কেউ এক জন ঢুকেছে। লাইভ ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করে তাঁরা দেখেন, এক অপরিচিত নারী তাঁদের ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পানীয় খাচ্ছেন এবং সোফায় আরাম করে বসে ফোন দেখছেন। ইয়েলোস্টোনে ভ্রমণের শেষ রাতে তাঁরা এই সতর্কবার্তাটি পান। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন ওই অনুপ্রবেশকারী নিরাপত্তা ক্যামেরাটি খেয়াল করেন। এর পর তিনি বুকশেলফ থেকে ক্যামেরাটি সরিয়ে দেন। ফলে দম্পতিটি বাড়ির ভেতরে কী চলছে, তা আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। ইয়েলিমের কথায়, ‘‘আমরা তখন ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাদের মধ্যে চরম ভয় কাজ করছিল।’’ বিল জানান, সতর্কবার্তাটি না পেলে কী ঘটতে পারত, তা ভেবেই তাঁরা শিউরে উঠছিলেন। ছুটির মধ্যেই তাঁরা পুলিশ এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলেও দম্পতি জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
দম্পতি জানিয়েছেন, পুলিশ আসার আগেই তাঁদের দুই বন্ধু অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে পৌঁছোন। তাঁদের মধ্যে এক জন দরজায় কড়া নাড়েন এবং মহিলার মুখোমুখি হন। মহিলা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেলেও কয়েক মিনিট পর চাবি ব্যবহার করে আবার ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। জানা গিয়েছে, দরজার তালা খোলার আগে ওই নারীর হাতে এক গোছা চাবিও দেখা গিয়েছিল। অবশেষে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় এবং ওই মহিলাকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই অ্যাপার্টমেন্টের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই মহিলা নিজেকে ‘কিম’ দম্পতির পোষ্যকে বাইরে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার লোক (ডগ ওয়াকার) হিসাবে দাবি করেছিলেন এবং তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের চাবিটি নিয়েছিলেন। বাসিন্দাদের পাঠানো একটি ইমেল অনুযায়ী, যে নিরাপত্তারক্ষী চাবি মহিলার আগে তুলে দিয়েছিলেন, তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ভবন কর্তৃপক্ষ কর্মীদের পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার উপর পুনরায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছে।
আরও পড়ুন:
তবে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন দু’দিন পর ওই নারী আবারও অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে যান। জানা গিয়েছে, তিনি কারও সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকে দেন।
দম্পতি জানান, ওই মহিলাকে বেশ বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল এবং প্রথম বার তিনি যে পোশাকে এসেছিলেন, সেই পোশাকেই আবার অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় বার শুধু তাঁর হাতে হাসপাতালের একটি ব্রেসলেট ছিল। ওই মহিলার পরিচয় এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে চুরি এবং অনধিকার প্রবেশের ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। দম্পতিও জানিয়েছেন, তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে কোনও কিছু চুরি হয়নি। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা তাঁদের গভীর ভাবে বিচলিত করে তুলেছে।