রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের প্রমাণ রেকর্ড করলেন যুবক! স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেলেন। তার পরেও জেলের সাজা হল তাঁর। কিন্তু কেন? চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে তাইওয়ানে। ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সে দেশ জুড়ে হইচই ফেলেছে। আলোড়ন পড়েছে সমাজমাধ্যমেও।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাইওয়ানের এক যুবক তাঁর স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। ঠিক করেন হাতেনাতে ধরবেন স্ত্রীকে। তক্কে তক্কে ছিলেনও। এর পর এক দিন রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ক্যামেরা ব্যবহার করে তাঁরই ঘরে স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন তিনি। মামলা করেন স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ভিডিয়োটি তাঁকে একটি দেওয়ানি মামলায় ক্ষতিপূরণ পেতে সহায়তা করলেও, গোপনে দৃশ্যটি ধারণ করার কারণে আইনি জটিলতায় পড়েন তিনি। স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে যে ভিডিয়ো প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেটি তাঁর নিজের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়। আদালতের রায়, অনুমতি ছাড়াই স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য ধারণ করেছেন যুবক। জেলের সাজা হয়েছে তাঁর।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে বিয়ে হয় তাইওয়ানের ওই দম্পতির। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গেই থাকতেন যুবক। ছুটির সময় তাঁরা তাঁদের একটি হলিডে হোমেও যেতেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বাড়িতে একটি ব্যবহৃত টুথব্রাশ খুঁজে পান যুবক। তাঁর ধারণা হয় যে সেটি অন্য কোনও পুরুষের। খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন তিনি। জানতে পারেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে ওই ঘরে যাতায়াত করছেন এক পুরুষ। সেই সময় তাঁর স্ত্রীও সেখানেই থাকছেন।
সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তিনি পার্কিং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে স্ত্রীর প্রেমিককে শনাক্ত করেন। ঠিক করেন স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিককে অন্তরঙ্গ অবস্থায় হাতেনাতে ধরবেন। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বিষয়টি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে ক্যামেরাযুক্ত রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন ওই যুবক। এর পর স্ত্রী এবং স্ত্রীর প্রেমিক ওই ঘরে রয়েছে জানতে পেরে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকে যন্ত্রটির ক্যামেরা চালু করেন তিনি। স্ত্রীকে তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকাকালীন ক্যামেরাবন্দিও করেন। পরে যুবক সেই ভিডিয়ো একটি দেওয়ানি মামলায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন এবং দাবি করেন, স্ত্রীর পরকীয়া তাঁর বৈবাহিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ তাইওয়ানি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা) দাবি করেন তাইওয়ানের ওই যুবক। এর পরে আদালতের তরফে যুবকের স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে যুবককে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন:
তবে মামলায় যুবকের জয় হলেও বিষয়টি সেখানে থেমে থাকেনি। যুবকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন তাঁর স্ত্রীও। সম্মতি ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য রেকর্ড করে তা প্রকাশ্যে আনার অভিযোগ তোলেন তরুণী। যদিও যুবক যুক্তি দেন, দেওয়ানি আদালত ইতিমধ্যেই ওই ভিডিয়ো প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাঁর এই কাজ ‘আইনত বৈধ’। যদিও আদালত যুবকের যুক্তি মেনে নেয়নি। বিচারক রায় দেন, ভিডিয়োটি ইচ্ছাকৃত ভাবেই রেকর্ড করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত, অবৈধ ভাবে ব্যক্তিগত ভিডিয়ো রেকর্ড করার দায়ে সম্প্রতি ওই যুবককে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাঁকে প্রায় ৪.৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।