বিজেপি বিধায়কের ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে দমকলের গাড়ি! মধ্যপ্রদেশের সিঙ্গরৌলির ওই বিজেপি বিধায়কের সরকারি বাসভবনের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কাজে দমকলের গাড়ি ব্যবহারের ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই হইচই ফেলেছে সে রাজ্যে জুড়ে। আলোড়ন পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারি সম্পদ এ ভাবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার ক্যামেরাবন্দি হয়েছে বলে দাবি করা ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বিলৌঞ্জিতে বিজেপি বিধায়ক রামনিবাস শাহের সরকারি বাসভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে দমকলের একটি গাড়ি। আর দমকল বিভাগের তিন কর্মী হোসপাইপ ধরে বাসভবনের বাইরে রাখা একটি গাড়িতে জল ছিটিয়ে ধুচ্ছেন। জানা গিয়েছে, গাড়িটি সিঙ্গরৌলি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রামনিবাসের মালিকানাধীন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বিধায়কের বাসভবনে কেন দমকলের গাড়িটি উপস্থিত ছিল এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কাজে সেটি ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এক জন নেতার ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জরুরি পরিষেবার কোনও গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে কি না। বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিংহের বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষের বাড়িতে আগুন লাগলে তা নেবাতে দমকলের গাড়ি পৌঁছোতে ব্যর্থ হয়। অথচ এখানে সিঙ্গরৌলিতে বিজেপি বিধায়ক দমকলের গাড়ি তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কাজে ব্যবহার করছেন।’’ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারি সম্পদের ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরাও। যদিও কার নির্দেশে দমকলের কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন কিংবা ঠিক কী পরিস্থিতিতে গাড়িটি ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে বিতর্কিত ভিডিয়োটি নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন রামনিবাস। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে বিজেপি বিধায়ককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘একজন বিধায়ক কি নিজের গাড়ি নিজে ধোবেন?’’ যদিও তাঁর অনুপস্থিতিতে কী ঘটেছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের পাল্টা আক্রমণ করে তিনি জানিয়েছেন, তিনি নিজে গাড়িটি ধোয়ার ব্যবস্থা করেননি। জরুরি পরিষেবার জন্য নির্ধারিত দমকলের গাড়ি ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়ার কাজে ব্যবহার করা কতটা সমীচীন, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি রামনিবাস। বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি ভোপাল থেকে ফিরে একটি সরকারি স্কুলে সাইকেল বিতরণ কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে একটা জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়েছিল। এর পর শান্তি কমিটির একটি বৈঠক ছিল।’’ তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন না, তাই কী ঘটেছিল তা তাঁর জানা ছিল না। রামনিবাসের দাবি, তিনি কেবল তাঁর চালককে দ্রুত গাড়িটি নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
রামনিবাস এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওই বাসভবনে দমকলের গাড়িটির উপস্থিতির পিছনে অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘গাড়িটিকে কে সেখানে ডেকেছিল এবং কেন সেটি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, তা পুর কর্তৃপক্ষের জানা উচিত।’’ তবে সিঙ্গরৌলি পুরনিগমের কমিশনার সবিতা প্রধানকে প্রশ্ন করা হলে তিনিও জানিয়েছেন, ওই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই তিনি জানেন না।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন মহলে। সমাজমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি। অনেকেই সরকারি গাড়ির এমন ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।