বাড়িতে থাকা রাশি রাশি টাকা এবং সোনার গয়নার সম্ভার দেখিয়ে ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন ইউটিউবার দম্পতি। সেই ভিডিয়োই কাল হল। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের বাড়ি থেকে চুরি গেল প্রায় ১ কোটি টাকার সোনার গয়না! ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর নাগেরকয়েলে। সেই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। সমাজমাধ্যমে বড়লোকি চাল দেখানোর ঝুঁকি নিয়ে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
‘ভিজেশেট্টি’ নামের এক এক্স ব্যবহারকারীর পোস্ট অনুযায়ী, চোরেরা নাগেরকয়েলের কাছে থাম্মাতুকোনামের ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত ইউটিউবার দম্পতি বিনোদ কুমার এবং মধুমিতার বাড়িকে নিশানা করেছিল। জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির বাড়ি থেকে ৯৪৪ গ্রাম সোনা এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ চুরি হয়েছে। ঘটনাটি বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ চুরির ঠিক কয়েক দিন আগেই মধুমিতা তাঁর সমাজমাধ্যমে অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিয়োয় তিনি তাঁদের বাড়ির পুজোর ঘরে রাখা পারিবারিক সম্পদ বা গয়না দেখান। বাড়িতে থাকা অন্যান্য গয়না এবং নগদ অর্থের ভিডিয়োও পোস্ট করেন।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিয়ো পোস্টের কয়েক দিন পরেই বৃহস্পতিবার রাতে চোরেরা ইউটিউবার দম্পতির বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সিসিটিভি নজরদারি থাকা সত্ত্বেও নগদ এবং সোনার গয়না-সহ মূল্যবান অনেক সামগ্রী লুট করে নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা। দাবি, বিনোদ কুমার এবং মধুমিতার বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া সোনার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। সেই ঘটনায় রাজাকামঙ্গলম পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের কল রেকর্ড যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
সমাজমাধ্যমে দামি জিনিসপত্র প্রদর্শনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি। ঘটনার ভিডিয়োও ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। এক জন নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, “আমার মনে হয় ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষের সামগ্রিক মেধা কমে গিয়েছে। না হলে এ সব কেউ সমাজমাধ্যমে দেখায়?’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘মানুষকে সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান এবং বোধ শেখানোর জন্য আমাদের এআইয়ের প্রয়োজন। কারণ মানুষ এ সব হারিয়ে ফেলছে।” তৃতীয় এক নেটাগরিকের মন্তব্য, ‘‘বেশ হয়েছে। সম্পত্তি নিয়ে বেশি দম্ভ করার ফল।’’ যদিও নেটাগরিকদের একাংশের দাবি, চুরির দাবি মিথ্যাও হতে পারে। হয়তো ভিডিয়োয় বেশি করে লাইক পেতে চুরির গল্প ফেঁদেছেন ইউটিউবার দম্পতি।