‘জলদি বোল, কাল সুবহ পনবেল নিকলনা হ্যায়’— জনপ্রিয় বলিউড ছবির সিরিজ় ‘গোলমাল’-এর এই সংলাপের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ছাত্রের কলার ধরে মারমুখী হয়ে উঠলেন অধ্যাপক। হুমকিও দিলেন প্রকাশ্যে। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের অহমদাবাদের নিরমা ইউনিভার্সিটিতে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বার্ষিক কারিগরি অনুষ্ঠান চলছিল। মঞ্চে ছিলেন স্ট্যান্ড-আপ কৌতুকশিল্পী রজত সুদ। কিন্তু পরিস্থিতি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়, যখন অনুষ্ঠানের মঞ্চে এক অধ্যাপক এক ছাত্রের কলার চেপে ধরেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বিভাগীয় প্রধান হিমাংশু পটেল ফোন থেকে কিছু পড়ার পাশাপাশি দর্শকের উদ্দেশে কথা বলছেন। তিনি যখন পুনরায় বক্তব্য শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন এক ছাত্র ‘গোলমাল ৩’ সিনেমার একটি সংলাপ চিৎকার করে বলে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘‘জলদি বোল, কাল সুবহ পনবেল নিকলনা হ্যায় (অর্থাৎ, তাড়াতাড়ি বক্তৃতা শেষ করতে বলেন ব্যঙ্গের ছলে)।’’ জবাবে অধ্যাপক বলেন, ‘‘শুনতে না চাইলে বেরিয়ে যাও।’’
আরও পড়ুন:
তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে যায়নি। ২৬ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক পটেল ইশারায় ওই ছাত্রকে মঞ্চে আসতে বলেন। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তিনি ছাত্রটির দিকে আঙুল তুলে তাঁকে সামনে আসার নির্দেশ দিচ্ছেন। ছাত্রটি কাছে আসতে দর্শকের সামনেই তাঁর কলার চেপে ধরেন অধ্যাপক। ছাত্রের কলার ধরে থাকা অবস্থায় পটেলকে এ-ও বলতে শোনা যায়, ‘‘তোমার সমস্যা কী? আমি যে কোনও সীমা পার করতে পারি। তুমি যখনই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও অধ্যাপককে অপমান করার সাহস দেখাবে, তখনই তোমার সর্বনাশ হবে।’’ সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিয়োটি প্রসঙ্গ অধ্যাপক পটেল কোনও মন্তব্য করতে চাননি বলেই খবর।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ‘শোভিত বাকলিওয়াল’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। অধ্যাপকের করা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে নেটাগরিকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলেও বিষয়টি নিয়ে মজার মজার মন্তব্যও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। আবার কেউ কেউ যুক্তি দিয়েছেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে সমাধান করা উচিত ছিল। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর মন্তব্য করেছেন, ‘‘একজন অধ্যাপক হিসেবে আমি বলতে পারি, ছাত্রদের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে আচরণ করলে তারাও সম্মান দেয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই অধ্যাপক অভদ্র এবং কঠোর।’’ অন্য এক জন আবার বলেছেন, ‘‘শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে পদক্ষেপ করতেই হবে। এর জন্য কোনও না কোনও শাস্তি হওয়া জরুরি। তবে বিষয়টি পেশাদার ভাবে সামলানো উচিত ছিল।’’