Advertisement
E-Paper

পানশালায় পৌনে দু’লাখ টাকার বিল, মেটাতে না পারায় মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হল তরুণীর! ভাইরাল ভিডিয়োয় বিতর্ক

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় গিয়ে প্রায় ৬০,০০০ ভাট (প্রায় ১৮০০ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা) বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ১৮ বছর বয়সি তরুণীর মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৮
Video shows Bangkok bar punished customer due to unpaid bill

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

পানশালায় গিয়ে ১.৭ লক্ষ টাকার বিল। মেটাতে না পারায় জোর করে তরুণীর মাথা মুড়িয়ে দিলেন পানশালা কর্তৃপক্ষ! ঘটনাটি ঘটেছে ব্যাঙ্ককের একটি ‘হোস্ট বার’-এ (যে পানশালায় পুরুষ কর্মীরা গ্রাহকদের সঙ্গ দেন এবং বিনোদনমূলক সেবা প্রদান করেন)। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই পানশালা কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাঙ্ককের একটি পানশালায় গিয়ে প্রায় ৬০,০০০ ভাট (প্রায় ১৮০০ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা) বিল পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ১৮ বছর বয়সি তরুণীর মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ২৫ অগস্ট ব্যাঙ্ককের পিংকলাও এলাকার এক পানশালায় ঘটেছিল বলে জানা গিয়েছে। এক তরুণী গ্রাহক বকেয়া বিল মেটাতে না পারায় তাঁকে পুলিশের হাতে না দিয়ে পানশালা কর্তৃপক্ষই শাস্তির ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ। তাই সমাজসৈনিক চালিদা ফালামাত সমাজমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিয়ো শেয়ার করার পর বিষয়টি সবার নজরে আসে।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তরুণী ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যাঙ্ককের ওই পানশালায় ঢুকেছিলেন। সেখানে তিনি খাবার এবং ২০০-এর বেশি পানীয় অর্ডার করেন। এর ফলে বিলের পরিমাণ প্রায় ৬০,০০০ ভাটে গিয়ে দাঁড়ায়। বিল পরিশোধ না করেই চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় পানশালার কর্মীরা তাঁকে আটকে দেন। অভিযোগ, তরুণীকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে পানশালার ম্যানেজারই শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বকেয়া বিলের বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধানের পরিবর্তে ম্যানেজার ওই তরুণীকে দিয়ে একটি চুক্তিতে সই করান। সেই চুক্তি অনুযায়ী, তরুণীর মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হবে বকেয়া বিলের ৩০০০ ভাটের পরিবর্তে। পানশালা কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই তরুণী আগেও অন্য পানশালায় গিয়ে একই ভাবে বিল না মিটিয়ে পালিয়েছিলেন। টিকটকের মাধ্যমে বিভিন্ন ‘হোস্ট বার’ খুঁজে তিনি সেখানে যেতেন এবং বড় অঙ্কের বিল করে পালিয়ে যেতেন। আর সে কারণেই তাঁরা ওই সিদ্ধান্ত নেন।

ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সাদা রঙের পোশাক পরা এক তরুণী পানশালার ভিতরে বসে আছেন এবং এক জন তাঁর সঙ্গে বকেয়া বিল নিয়ে আলোচনা করছেন। এর পরই এক জন বারটেন্ডার ইলেকট্রিক রেজার দিয়ে তাঁর চুল কাটা শুরু করেন। ক্যামেরার পিছনে থাকা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি আপনার পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছি না। এটাই বাজারের দর। এর জন্য আমি বাড়তি অর্থও যোগ করছি। ঠিক আছে?’’ এর পর তরুণীর লম্বা কালো চুল কেটে ফেলেন পানশালার কর্মী।

জানা গিয়েছে, বার কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন যে কাটা চুলগুলি দান করার জন্য তাঁদেরই এক কর্মীর কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চুলগুলি কোথায় দান করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই ঘটনার অন্যতম বিতর্কিত দিক হল, মাথা কামানোর বিষয়ে ওই নারী আদৌ স্বেচ্ছায় সম্মতি দিয়েছিলেন কি না। ভিডিয়োয় তরুণীকে চুল কাটতে দেওয়ার চুক্তিতে সম্মত হতে দেখা গিয়েছে। তবে পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্যে সেই চুক্তিতে সই করার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই তরুণী দাবি করেছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময় তিনি চাপের মুখে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, পানশালার কর্মীরা তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন। আর সে কারণেই তিনি মাথা মুড়িয়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।

অন্য দিকে, পানশালার ম্যানেজার মারধরের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে ওই তরুণী এবং তাঁর মা দু’জনেই ওই শর্তে রাজি হয়েছিলেন। যদিও সমালোচনার মুখে পড়ে ওই ম্যানেজার ক্ষমা চেয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল।

তরুণীর চুল কেটে দেওয়ার ভিডিয়োটি একাধিক এক্স হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি। অনেকের মতে, বকেয়া বিলের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। সমাজসৈনিক চালিদা, যিনি ঘটনাটি সবার নজরে আনতে সহায়তা করেছিলেন, প্রশ্ন তুলেছেন— নিজেদের মতো করে শাস্তি চাপিয়ে না দিয়ে পানশালা কর্তৃপক্ষ কেন পুলিশের সহায়তা নিলেন না! সমালোচকেরা ঘটনাটিকে হয়রানি বলে মন্তব্য করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত কোনও চুক্তিকে আদৌ স্বেচ্ছাসম্মতি হিসেবে গণ্য করা যায় কি না। খবর, তাইল্যান্ডের সমাজ উন্নয়ন এবং মানব নিরাপত্তা মন্ত্রক ওই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।

Viral Video thailand Bangkok

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy