Advertisement
E-Paper

কাজের চাপে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন, চাকরি ছাড়তেও পারছেন না! ভিডিয়োয় অসহায়তার কথা শোনালেন তরুণী

ভিডিয়োয় ওই তরুণী জানিয়েছেন, কী ভাবে কর্মক্ষেত্রে চাপের কারণে তিনি সময়মতো নাওয়া-খাওয়ার মতো সাধারণ প্রয়োজনগুলি মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং জরুরি কাজের চাপে থাকায় অন্য কোনও চাকরি খোঁজার সুযোগও পাচ্ছেন না তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৩৮
Video shows woman breaks down over workload, claims she has no time to eat

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

কাজের চাপে দিশেহারা। কিন্তু চাকরি ছাড়ারও সময় নেই! নিজেকে খুব অসহায় মনে করছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন তরুণী। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করলেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে তাতে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

ভিডিয়োয় ওই তরুণী জানিয়েছেন, কী ভাবে কর্মক্ষেত্রে কাজের অত্যন্ত চাপের কারণে তিনি সময়মতো খাওয়া-দাওয়ার মতো সাধারণ প্রয়োজনগুলি মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং সবসময় জরুরি কাজের চাপে থাকায় অন্য কোনও চাকরি খোঁজার সুযোগও পাচ্ছেন না তিনি। ফলে নিজেকে এক ধরনের বন্দিদশায় আটকা পড়ার মতো অবস্থায় অনুভব করছেন। তেমনটাই দাবি তরুণীর।

ইনস্টাগ্রামে ‘প্রসেসিংঅনরেকর্ড’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় তরুণী দাবি করেছেন, গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা এবং কাজের শেষে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়ার কারণে তিনি ঠিকমতো খেতেও পারছেন না। কাজের চাপের প্রভাব কী ভাবে তাঁর দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে, তা বর্ণনা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তরুণী জানান, আগের দিন তিনি রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। কাজ শেষ করার সময় তাঁর খিদে থাকলেও অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তিনি রাতের খাবার না খেয়ে সরাসরি ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন কাজের চাপের কারণে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তিনি কিছু খেতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘‘গত রাতে আমি রাত ১টা পর্যন্ত কাজ করেছি। আমি রাতের খাবার খেতে পারিনি কারণ কাজ শেষ করতে করতে এতটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল যে, তখন শুধু ঘুমোনোর ইচ্ছাই হচ্ছিল। আমার খিদে পেয়েছিল, কিন্তু খাওয়ার মতো শক্তি বা মানসিক অবস্থা— কোনওটাই ছিল না।”

তরুণী ব্যাখ্যা করেছেন, অফিসে একের পর এক কাজ আসতেই থাকে তাঁর কাছে এবং প্রতিটি কাজকেই জরুরি হিসেবে গণ্য করা হয়। কাজের চাপে তিনি অসহায় বোধ করছেন, কারণ কর্মব্যস্ততার মাঝে নিজের জন্য সময় বার করা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে। তরুণী বলেন, ‘‘কাজের পাহাড় জমে আছে। আর সবকিছুই জরুরি। এখন বিকেল ৩টে বাজে। অথচ আমি এখনও কিছুই খেতে পারিনি। কারণ সবকিছুই যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে হচ্ছে। আমি খুব অসহায় বোধ করছি।’’

ওই তরুণী এ-ও জানান, তিনি চাইলেও চাকরি ছাড়তে পারছেন না, কারণ পরিবার তাঁর আয়ের উপরই নির্ভরশীল। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ফলে অন্য কোনও চাকরির জন্য আবেদন করার মতো সময় বা শক্তি, কোনওটাই তাঁর হাতে থাকছে না। তিনি বলেন, ‘‘এই মুহূর্তে আমি পদত্যাগও করতে পারছি না। কারণ, পরিবারের খাবারের জোগান আমাকেই করতে হয়। আবার অন্য চাকরির খোঁজও করতে পারছি না। কারণ, বর্তমান চাকরি নিয়েই আমি ভীষণ ব্যস্ত। মনে হচ্ছে, আমি যেন এক চক্রে বা এমন এক জালে আটকা পড়ে গিয়েছি, যা থেকে কোনও ভাবেই বার হতে পারছি না।’’

তরুণীর সেই ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টর বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তরুণীকে কর্মক্ষেত্রে কাজের সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন নেটাগরিকেরা। ইনস্টাগ্রামে বেশ কয়েক জন ব্যবহারকারী তাঁকে অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলানোর বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। এক জন লিখেছেন, ‘‘যত ক্ষণ আপনি কোনও বিষয়কে জরুরি বলে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তত ক্ষণ তা আসলে জরুরি নয়। দুপুর বা রাতের খাবার কখনওই বাদ দেবেন না। বিশ্রামও নেবেন। সে যত কাজই থাকুক। আপনি যদি স্পষ্ট ভাবে কাজের সীমা নির্ধারণ করে রাখেন, তবে ওই সময়গুলিতে কাজ করার জন্য কেউ আপনাকে বাধ্য করবে না।’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘কোনও প্রশ্ন না করে সব কাজে রাজি না হয়ে আপনার উচিত কাজের অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে বোঝা।’’

Viral Video Work Pressure woman Work Culture

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy