শপিং মল থেকে ঘি এবং রান্নার তেল চুরি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার ডিএলএফ মলে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার নয়ডার সেক্টর ১৮-এর ‘ডিএলএফ মল অফ ইন্ডিয়া’র একটি দোকানে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই দোকান থেকে ঘি ও রান্নার তেল চুরির সময় এক তরুণীকে আটক করা হয়। দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে ওই তরুণী তাঁর ব্যাগের ভিতর ঘিয়ের বয়াম এবং রিফাইন্ড তেলের বোতল লুকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর আচরণে দোকানের কর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তখনই প্রকাশ্যে আসে চুরির বিষয়। এর পর মল থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন দোকানের কর্মীরা।
আরও পড়ুন:
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণী তাঁর স্বামীর সঙ্গে মলে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। তাঁদের পোশাক ধোপদুরস্ত। কিছু ক্ষণ কেনাকাটার পর তাঁর স্বামী যখন বিলিং কাউন্টারে ছিলেন, তখন ওই তরুণী একা দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক জন নিরাপত্তারক্ষী তাঁর ব্যাগ পরীক্ষা করতে চাইলে তিনি তাতে বাধা দেন এবং কর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন আরও নিরাপত্তাকর্মী এগিয়ে আসেন। এর পর দোকানের কর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। ধরা পড়ে যায় চুরি। কর্মীরা তরুণীর ব্যাগ নিয়ে নেন এবং ব্যাগ থেকে ঘি এবং তেল উদ্ধার করা হয়। বিলিং কাউন্টার থেকে ডেকে আনা হয় তরুণীর স্বামীকে। জানা গিয়েছে, দোকানের কর্মীরা অন্য ক্রেতাদের সামনেই ওই তরুণী এবং তাঁর স্বামীকে ভর্ৎসনা করেন। তবে উভয় পক্ষই শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছোয়। পণ্যগুলির দাম মিটিয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটির একটি ভিডিয়ো ‘রমেশ স্পিকস’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে তিনটি অংশে শেয়ার করা হয়েছে, যা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, দুই নিরাপত্তারক্ষী ওই তরুণীকে ধরে মলের ভিতরে নিয়ে যাচ্ছেন এবং তিনি ফোন দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে হওয়া এক ব্যক্তিকে তাঁর মুখোমুখি হতেও দেখা যায়। ভিডিয়োয় দাবি, ওই তরুণী গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দোকানটিতে আসছিলেন এবং এর আগেও একাধিক বার পণ্য চুরির সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। দোকানের এক কর্মী জানান, সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় তাঁরা চুরির ঘটনাগুলি চিহ্নিত করেছিলেন। ওই কর্মী আরও অভিযোগ করেছেন যে, এর আগেও ওই তরুণী কয়েক হাজার টাকার ঘি ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে গিয়েছিলেন। ফুটেজে তেলের বোতল এবং ঘিয়ের বয়াম নিয়ে পালানোর সময় ওই তরুণীকে কী ভাবে ধরা হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে দেখা যায় ওই কর্মীকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়ো ফুটেজটি সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটাগরিকেরা প্রশ্ন তুলছেন, একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য হয়েও কেন ওই তরুণী ঘি এবং রান্নার তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চুরি করলেন? অনেকের ধারণা, তরুণী হয়তো ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’য় ভুগছেন। এটি এমন এক মানসিক ব্যধি যার ফলে মানুষের মধ্যে চুরি করার এক অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। তবে এই চুরির প্রকৃত কারণ বা পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট।