কর্মক্ষেত্রে সর্বস্ব দিয়ে কাজ করা হিতে বিপরীত হতে পারে! মন্তব্য করলেন এক তরুণী। ব্যাখ্যাও করলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের কর্মীদের করা সেরা কাজই তখন সাধারণ মানের হয়ে দাঁড়ায়। ওই তরুণীর একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো পোস্ট করে ওই তরুণী সতর্ক করেছেন, যে সব কর্মী নিয়মিত ভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে কাজ শেষ করেন বা গভীর রাতেও কাজ সংক্রান্ত মেসেজের উত্তর দেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা বেড়ে যেতে পারে। তিনি মনে করেন, প্রতিদিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করলে এক সময় সেই বাড়তি প্রচেষ্টাকেই কাজের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া হতে পারে। নিজের মতামত তুলে ধরে আবরিন নামের ওই তরুণী কর্পোরেট কর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁরা যেন কর্মক্ষেত্রে নিজেদের কাজের সীমানা নির্ধারণ করে রাখেন। তিনি বলেছেন, ক্লান্তি, ব্যক্তিগত সমস্যা বা জরুরি কোনও পরিস্থিতির জন্য কর্মীদের কিছুটা শক্তি বা মানসিক সামর্থ্য জমিয়ে রাখা উচিত। তরুণীর মতে, সব সময় অতিরিক্ত প্রচেষ্টা প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি পূরণ না হলে অহেতুক খারাপ ব্যবহারও করা হতে পারে তাঁর সঙ্গে।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োয় আবরিন ব্যাখ্যা করেছেন, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত কোনও কাজ শেষ করলে ঊর্ধ্বতনেরা কাজের পরিমাণ বা সময়সীমা সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা পোষণ করতে পারেন। একই ভাবে, অফিসের সময়ের বাইরে মেসেজের উত্তর দিলে অন্যরা হয়তো ধরে নিতে পারেন যে, আপনি প্রতি রাতেই একই ভাবে কাজের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। আবরিনের কথায়, ‘‘অফিসে সব সময় নিজের শতভাগ উজাড় করে দেওয়া বন্ধ করুন। আর না, আমি আপনাকে অলস হতে বলছি না। আপনি হয়তো ভাবছেন, ৬ ঘণ্টার কাজ ৩ ঘণ্টায় শেষ করলে আপনাকে খুব দক্ষ কর্মী হিসেবে দেখা হবে। কিন্তু আসলে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। আগামীকাল থেকেই ওই কাজটা আপনার জন্য স্থায়ী ভাবে তিন ঘণ্টার কাজে পরিণত হবে। ধরুন, আপনি রাত ১০টায় এক বার কাজ সংক্রান্ত মেসেজে সাড়া দিলেন। ব্যাস, সকলে ভাববে আপনি এখন প্রতি রাতে ১০টায় কাজের জন্য উপলব্ধ। কারণ এটাই কর্পোরেট জগতের অলিখিত নিয়ম। আপনার সেরা কাজটাই তখন আপনার কাজের ন্যূনতম মান হিসেবে গণ্য হতে থাকে। তাই, কাজে নিজের ৮০ শতাংশ শক্তি ব্যয় করুন। বাকি ২০ শতাংশ শক্তি জমিয়ে রাখুন সেই দিনগুলোর জন্য যখন আপনার শারীরিক বা মানসিক শক্তি সত্যিই কম থাকবে, ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সমস্যা চলবে বা অফিসে কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
আরও পড়ুন:
তবে আবরিন স্পষ্ট করেছেন, তাঁর পরামর্শের অর্থ এই নয় যে কাজে অবহেলা করতে হবে বা দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে হবে। বরং তিনি বোঝাতে চেয়েছেন কর্মীরা যেন তাঁদের সর্বোচ্চ দক্ষতাকে এমন কোনও মানদণ্ডে পরিণত না করেন, যা প্রতিদিন পূরণ করাটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। তিনি জানিয়েছেন, কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করে রাখলে কর্মীরা কঠিন দিনগুলি সহজে সামলাতে পারবেন। এতে মাঝেমধ্যে দেখানো বাড়তি কর্মতৎপরতার কারণে তৈরি হওয়া উচ্চ প্রত্যাশার চাপে তাঁদের হিমশিম খেতে হবে না।
আরও পড়ুন:
কর্মক্ষেত্রে কাজের সীমানা নির্ধারণ এবং কাজের চাপ সামলানোর বিষয়ে আবরিনের মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করে অনেকেই তার পোস্টে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “কাজের সীমানা বা ‘বাউন্ডারি’ ঠিক করাটা খুবই জরুরি।” অন্য এক জন মন্তব্য করেছেন, “কথাটা একদম সত্যি। কর্পোরেট জীবনকে নিখুঁত ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অবিরাম কাজ নয়, বরং বুদ্ধি দিয়ে কাজ করুন।”