বারুইপুরে গণপিটুনিতে ৩৫ বছরের যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই নিয়ে গণপিটুনিকাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল সাত। শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়েছিলেন। গণপিটুনিতে যুবককে হত্যার ঘটনায় কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তার পরেই পুলিশের তদন্ত এবং ধরপাকড় আরও জোরালো হয়েছে।
গণপিটুনিকাণ্ডে প্রথমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে শুক্রবার রাতে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই পাঁচ জনই আদালতের নির্দেশে আপাতত পুলিশি হেফাজতে। শুভেন্দু বারুইপুর থেকে ঘুরে আসার পর শনিবার আরও দু’জন ধরা পড়েন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতেরা হলেন, ফারুক সর্দার, রাজেশ সর্দার, শরিফুল মল্লিক, সাবিউদ্দীন বৈদ্য, ফরিদ শেখ, আবু সিদ্দিক সর্দার এবং শামিম আলি খান। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বেআইনি জমায়েত, অশান্তি বাধানো, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত ভাবে জনসাধারণকে আঘাত এবং গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন, আগেই জানান শুভেন্দু। শনিবার ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২৫ লক্ষ টাকার চেক। এ ছাড়া, যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োয় যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ ইন্দ্রজিতের পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিয়েছে, জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বাড়িও প্রশাসনের উদ্যোগে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।
বারুইপুরের সূর্যপুরে শনিবার নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। সেখানেই আপাতত ইন্দ্রজিতের দাদাকে নিয়োগ করা হয়েছে।
গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দিন নাবালিকার দেহ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয় এলাকায়। রেল অবরোধও করা হয়েছিল। অভিযোগ, সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎকে গণধোলাই দেওয়া হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, ঘর থেকে ঘুমন্ত যুবককে মারতে মারতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর নেপথ্যে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তার পরেই গ্রেফতারির সংখ্যা বাড়ল।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনায় তিনটি মামলা রুজু করেছিল পুলিশ। খুনের পাশাপাশি গণপিটুনিতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু এবং পুলিশকে মারধরের পৃথক মামলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার জানিয়েছেন, মামলার সংখ্যা আরও বেড়েছে। রেললাইন অবরোধের ঘটনাতেও পৃথক মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
- গত শনিবার, ৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১২ বছরের কিশোরী। রবিবার পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক সন্দেহভাজনকে গণধোলাই দেয় উত্তেজিত জনতা। তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
- এর পরও নাবালিকার দেহ ঘিরে রাস্তা আটকে দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ট্রেন পরিষেবাও থমকে গিয়েছিল তার জেরে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
-
উপড়ে ফেলা হবে বেআইনি মদ, গাঁজার ঠেক! বারুইপুরের ঘটনা টেনে পুলিশকে দু’সপ্তাহের সময় বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
-
বারুইপুরে শুভেন্দু: গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারকে ২৫ লাখ, দাদাকে সিভিকের চাকরি, কথা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও
-
গণপিটুনিকাণ্ডে আরও গ্রেফতার! মুখ্যমন্ত্রী বারুইপুরে নিহত ইন্দ্রের বাড়ি যাওয়ার আগের রাতেই পুলিশের জালে তিন অভিযুক্ত
-
বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রের বাড়ি সারাইয়ে প্রশাসন, বসল সিসি ক্যামেরা, শনিবার মণ্ডলদের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী
-
বারুইপুরে গণপিটুনি ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় আরও পাঁচ জন গ্রেফতার! ধৃত বেড়ে ৩৫, বাকিদের সন্ধানেও তল্লাশি