Advertisement
E-Paper

গাইঘাটা ‘এনকাউন্টার’: বন্দুক ছিনিয়ে গুলি, আত্মরক্ষার জন্য জলাশয়ে ঝাঁপ! পুনর্নির্মাণ শেষে কী কী ঘটল গভীর রাতে?

পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ খবর পেয়ে খুশি নিহত কিশোরীর পরিবার। তার বাবা বলছেন, “আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভাল করেছে।” পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর খবরে খুশি এলাকাবাসীদের একাংশও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৯
পুলিশের হেফাজতে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। গাইঘাটায় সোমবার রাতে ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হয় তাঁর।

পুলিশের হেফাজতে অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস। গাইঘাটায় সোমবার রাতে ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হয় তাঁর। — নিজস্ব চিত্র।

গাইঘাটায় পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হয়েছে কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের। পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় অভিযুক্তের। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, সোমবার রাত ১২টার কিছু আগে অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য যাওয়া হয়। অকুস্থল থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরেই রয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত।

পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পর্ব শেষে ফেরার সময়ে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা করেন অভিযুক্ত। গাড়িতে করে যখন অভিযুক্তকে নিয়ে ফেরা হচ্ছিল, তখন বৈদ্যবাড়ি এলাকার কাছে তিনি প্রস্রাব করার জন্য গাড়ি থামাতে অনুরোধ করেন। তার পরেই তিনি কর্তব্যরত এক পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে নেন বলে দাবি পুলিশের। পুলিশের ওই সূত্রের বক্তব্য, পর পর তিন রাউন্ড গুলি চালান অভিযুক্ত। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে পুলিশের গাড়িতে।

পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ঘটনার আকস্মিকতায় প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। সে সময় এক পুলিশকর্মী জখম হন। এক জন রাস্তার ধারের জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। তার পরে আত্মরক্ষার জন্য চার রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। তার মধ্যে একটি গুলি লাগে অভিযুক্তের গায়ে। সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জখম পুলিশকর্মীরও প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় হাসপাতালে।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, বৈদ্যবাড়িতে রাস্তার উপরে ওই অংশটি ব্যারিকেড করে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে একটি জুতোও পড়ে থাকতে দেখা যায়। যদিও সেটি কার জুতো, তা স্পষ্ট নয়। মৃত অভিযুক্তের বাড়ির দিকে এবং মৃত কিশোরীর বাড়ির দিকেও আপাতত বাইরের লোকেদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ।

সোমবার রাতের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পুলিশি ‘এনকাউন্টারের’ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্তোষপ্রকাশ করছেন গাইঘাটার এলাকাবাসীদের একাংশ। খুশি নিহত কিশোরীর পরিবারও। কিশোরীর বাবা বলছেন, “আমার মেয়েকে তো আর ফেরত পাব না। সরকারের নির্দেশে পুলিশ ভাল করেছে। অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিল। পুলিশকে গুলি চালিয়েছিল। পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

স্থানীয় এক মহিলার কথায়, “এনকাউন্টার হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। ওর মতো মানুষ পুলিশকে আক্রমণ করে। একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া ওই মেয়েটাকে আক্রমণ করেছে। ওর যা হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। ওর যা হয়েছে ভাল হয়েছে। যাতে এটা দেখে মানুষ শিক্ষা নেয়। পুলিশের কাজে আমি খুব খুশি।” অপর এক প্রৌঢ় এলাকাবাসীও বলছেন, “এত বড় ঘটনা ঘটানোর পরেও তার (অভিযুক্তের) কোনও ভয় নেই। হেলদোল নেই। সে প্রশাসনের বন্দুক কেড়ে নিয়ে প্রশাসনকেও মারতে চেয়েছিল!”

গত শনিবার গাইঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী বাড়ির কাছেই আয়োজিত একটি জলসা দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন সেখানে। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। তার পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলে। শেষে রবিবার সকালে উদ্ধার হয়েছিল কিশোরীর বিবস্ত্র ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের দাবি, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনায় রবিবারই ওই পরিবারের আত্মীয় প্রহ্লাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Gaighata

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy