Advertisement
E-Paper

মূল ঘোষক ছিলেন সেন্টু, কিন্তু ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ কে ঘোষণা করেন, কার নির্দেশে? কালিয়ার মুখোমুখি বসিয়ে হবে জেরা

বিপর্যয়ের ঘটনাক্রম মিলিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, সেই কারণে ধৃত দুই ঘোষক সেন্টু এবং কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:২৪
চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের পর মণ্ডপের কাছে মোতায়েন পুলিশ।

চোরবাগান সর্বজনীনে বিপর্যয়ের পর মণ্ডপের কাছে মোতায়েন পুলিশ। — নিজস্ব চিত্র।

চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তে এ বার ধৃত দুই ঘোষককে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় ঘোষণার মূল দায়িত্বে ছিলেন সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু। প্রাথমিক তদন্ত এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ। তবে গত শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে বিপর্যয়ের আগে-পরে ঠিক কী ঘটেছিল, সে সময়ের ঘোষণা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরা। বিশেষ করে কার নির্দেশে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, কোন সময়ে তা ঘোষণা করা হয়েছিল, সে সব বিষয়ে আরও স্পষ্ট হতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

মাইকে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে ঘোষণার অভিযোগে দুই ঘোষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রথমে গ্রেফতার হন সেন্টু। পরে শুক্রবার সকালে অপর ঘোষক কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া। ঘটনার তদন্তে নেমে ঘোষণা সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে এসেছে। এ বার সেই তথ্যের অন্য তথ্যগুলি মিলিয়ে দেখতে চাইছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে যে সময়ে ঘোষণাটি হয়েছিল এবং যে সময়ে বিপর্যয়টি হয়, সেই সব ঘটনাক্রম মিলিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই কারণে ধৃত দুই ঘোষক সেন্টু এবং কালিয়াকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা। শনিবার ব্যাঙ্কশাল আদালত ৬ নভেম্বর পর্যন্ত কালিয়ার পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনাচক্রে, কালিয়ার গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর ফেসবুক হ্যান্ডল থেকে একাধিক পোস্ট করা হয়। হাতে লেখা একটি নোটের ছবিও পোস্ট করা হয় তাঁর সমাজমাধ্যম হ্যান্ডল থেকে। হাতে লেখা ওই নোটটিতে দাবি করা হয়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি (কালিয়া) ক্লাবে গিয়েছিলেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন গিরিশ পার্ক থানার ‘বড়বাবু এবং ছোটবাবু’। তাঁরা চা খাবেন বলায় তিনি এবং ক্লাবের অন্য এক সদস্য চা আনতে গিয়েছিলেন। তাঁদের চা দেওয়ার পরে ক্লাবে বসেই কিছু কাজ করছিলেন বলে লেখেন কুশল। ১০-১৫ মিনিট পরে একটি শব্দ শুনতে পান তাঁরা। তা শুনে থানার বড় বাবু এবং ছোট বাবু বেরিয়ে যান ক্লাবঘর থেকে।

কালিয়ার আরও দাবি, ‘‘আমাদের ক্লাবের সম্পাদকের পুত্র কবির এসে বলে, ‘মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে’। সেই সময় আমি যখন বেরিয়ে যাব, তখন পুলিশের এক জন বলেন, আপনারা মাইকিং করুন। আমি সামনে গিয়ে দেখি, যে মাইকিং করছিল, সে নেই।’’ কুশল দাবি করেছেন, তার পর ‘বাধ্য হয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও’ তিনি মাইকে ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর সমাজমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে (যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। এমনই একটি ভিডিয়োয় ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে মাইকে ঘোষণা করতে শোনা যায়। সেই ঘোষণায় সকলকে দ্রুত মণ্ডপ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়। দাবি করা হচ্ছে, মাইকের ওই ঘোষণায় আরও আতঙ্ক ছড়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। যার জেরে আরও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। পরে সেই হুড়োহু়ড়ি এবং পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর মেলে। আহত হন আরও অনেকে।

সোনারপুরের বাসিন্দা সুদীপ্ত হালদার শনিবার চোরবাগানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। সুদীপ্তের দাবি, দুর্ঘটনায় আহত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর দুই বোনের নাম নেই আহতদের তালিকায়। বোনেদের চিকিৎসার জন্য সরকারি সাহায্যের আশায় এ দিন চোরবাগান মণ্ডপে পৌঁছোন তিনি। পুলিশের কাছে জমা দেন দুই বোনের নাম এবং নথি।

সংক্ষেপে
  • চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় সপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু।
  • বিপর্যয়ের পর প্রথমে পুজো কমিটির দু’জন কর্তা-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হন পুজোমণ্ডপের দুই ঘোষকও।
Kolkata Police Durga Puja

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy