চোরবাগানে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল, তখন মাইকে একটা ঘোষণা হয়— ‘‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে!’’ অভিযোগ, ওই ঘোষণাই দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তার অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। আগেই সন্দেহভাজন দুই ঘোষককে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এ বার এক জন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে আটক করা হয়। বিপর্যয়ের পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হলেও পাত্তা পাওয়া যায়নি সেন্টুর। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দু’জনকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সেন্টু ছিলেন। তাঁদের গতিবিধি উপর নজর রাখা হয়েছিল। তাঁদের খোঁজে বিভিন্ন দিকে অনুসন্ধানও চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সেন্টুর মোবাইল বন্ধ ছিল। গোপন আস্তানা থেকে বিভিন্ন সময়ে অন্য অন্য নম্বর থেকে পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন সেন্টু। তেমনই সন্দেহভাজন আটটি নম্বর ট্র্যাক করেন তদন্তকারীরা। আর সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে পাকড়াও করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, তাঁকে লালবাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে।
চোরবাগানের বিপর্যয়ের পর সমাজমাধ্যমে বেশ কয়েকটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। এমনই এক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, গ্রিলে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছেন কয়েক জন দর্শনার্থী। অন্য একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, বাইরে যাওয়ার গেট থেকে মণ্ডপের ৮-১০ মিটার ভিতরে প্রবল ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কির মধ্যে মাটিতে পড়ে গিয়েছেন কয়েক জন। আতঙ্কে অনেকে চিৎকার করছেন। এক পুলিশকর্মী ক্রমাগত কাউকে ফোন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁকে ধরে এক জন মাটি থেকে উঠে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছেন। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই মণ্ডপ থেকে কেউ মাইকে ঘোষণা করেন, ‘‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে।’’
সেই ঘোষণায় সবাইকে দ্রুত মণ্ডপ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যেতে অনুরোধ করা হয়। মাইকের ওই ঘোষণায় আরও আতঙ্ক ছড়ায় দর্শনার্থীদের মধ্যে। আরও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সেই ঘোষণার বিষয়টিকে সমর্থন করে। চোরবাগানের মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার পথেই ছিল ক্লাব সদস্য এবং বিশেষ অতিথিদের বসার ঘর। সেখান থেকে মাইকে ঘোষণার ব্যবস্থাও ছিল। লালবাজার সূত্রে খবর, ঘোষক হিসেবে দু’জন অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে তদন্তে। তাঁদের মধ্যে আটক এক জন। ওই সময়ে কেন তিনি মাইকে ওই ধরনের ঘোষণা করলেন? কারও নির্দেশ ছিল কি? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর সেন্টুকে জেরা করে জানতে চান তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, ওই দুই সন্দেহভাজন ঘোষকের বাড়ি অমর বসু সরণিতে। মণ্ডপ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে। ঘটনার পর ওই দু’জনের বাড়িতেই যান আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধি। এক জনের বাড়িতে গেলে তাঁর পিসি বলেন, ‘‘ঘটনার পর থেকেই বাড়ি ফেরেনি ভাইপো। আমরাও যোগাযোগ করতে পারিনি।’’ তাঁর বাড়ির পাশের বাড়িতেই থাকেন অন্য সন্দেহভাজন ঘোষকও। পেশায় অ্যাপ ক্যাব চালক সেই ব্যক্তি ঘটনার পর থেকে পাড়ায় নেই। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, আসল দোষীকে আড়াল করে তাঁর স্বামীকে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বার তাঁদেরই এক জন অর্থাৎ সেন্টুকে আটক করল পুলিশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় সপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু।
- বিপর্যয়ের পর প্রথমে পুজো কমিটির দু’জন কর্তা-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হন পুজোমণ্ডপের দুই ঘোষকও।
-
অন্য রোগীরাও কর্পোরেট হাসপাতালে যেতে চাইলে ‘প্রোটোকল’ কী হবে? চোরবাগান প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলল জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন
-
‘মাইকের ঘোষণা শোনা যায়নি’, দাবি চোরবাগানে আহতের, কোন পথে মৃত্যুমিছিলের তদন্ত
-
পুজোয় কলকাতায় থাকার কথাই ছিল না, এই প্রথম চোরবাগানের মণ্ডপে যান নিহত ঘোষ দম্পতি
-
মূল ঘোষক ছিলেন সেন্টু, কিন্তু ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ কে ঘোষণা করেন, কার নির্দেশে? কালিয়ার মুখোমুখি বসিয়ে হবে জেরা
-
‘ঘোষক’ গ্রেফতার, থ্রিডি স্ক্যান করল ফরেনসিক! চোরবাগানে মণ্ডপ ঘুরে রাজ্যের গড়া ‘সিট’ জানাল, নজরে পুলিশ-পুরসভাও