শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরখা এবং নিকাবের মুখ ঢাকা পোশাক পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চলেছে ইটালি সরকার। এ কথা জানিয়েছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেই সঙ্গে রবিবার শাসকদল ‘ব্রাদার্স অব ইটালি’র (এফডিআই)-র সভায় তাঁর ঘোষণা, ইটালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমাও বেঁধে দেওয়া হবে।
বিগত কয়েক বছরে ইউরোপে ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, বুলগেরিয়া, বেলজিয়াম, লাটভিয়া, সুইৎজ়ারল্যান্ডের মতো দেশ বোরখা-সহ মুখঢাকা পোশাক পরা নিয়ে বিধিনিষেধ জারি করেছে। এ বার সেই পথে হাঁটতে চলেছে ইটালিও। জুলাই মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এবং ইটালি সেনার অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল রোবার্তো ভান্নাচ্চির গড়া দল ন্যাশনাল ফিউচার (এনএফ) দেশ জুড়ে বোরখা নিষিদ্ধের দাবিতে প্রচার শুরু করেছে। উগ্র জাতীয়তাবাদীদের সেই চাপই মেলোনির বোরখা-বিধিনিষেধ সংক্রান্ত ঘোষণার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের কাছে ইটালি অন্যতম প্রধান ট্রানজ়িট দেশ। আগামী বছর সেখানে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের আগে অভিবাসীদের মূলধারার সমাজের সঙ্গে ‘মানিয়ে নেওয়ার’ বিষয়টি প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। মেলোনি রবিবার দলীয় সমাবেশে বলেন, ‘‘যে সব বিদেশি শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তাদের মা-বাবাকেও ইটালীয় ভাষা শিখতে হবে। এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরখা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও এই প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।’’
প্রসঙ্গত, ইটালিতে কোনও স্কুল বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি বোরখা নিষিদ্ধ করার মতো সুনির্দিষ্ট আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে বলা আছে, সঙ্গত কারণ ছাড়া মুখ বা পরিচয় ঢেকে রাখে, এমন পোশাক বা হেলমেট পরা যাবে না। ২০০৮ সালে ইটালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরা যাবে। তবে পরিচয় শনাক্তের প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করতে হবে। মেলোনির জোটসঙ্গী অভিবাসন বিরোধী ‘লিগ পার্টি’ চলতি বছরের গোড়ায় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ‘সেনেট অফ দ্য রিপাবলিক’-এ একটি প্রস্তাব এনেছিল। তাতে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মুখ ঢাকা পোশাক ও হেলমেট পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়।