মোট ভোটারের সংখ্যা ২১ কোটির সামান্য বেশি। তার মধ্যে ৫ কোটি ৯০ লক্ষের বেশি ভোটার সরাসরি ভোটকেন্দের গিয়ে বা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে আগাম ভোট দিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক ভাবে আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে মঙ্গলবার সকাল ৬টা (স্থানীয় সময়) থেকে। বুধবার রাতের মধ্যেই ইঙ্গিত মিলবে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে (সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেনটেটিভস) ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না। ভোট প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও অনিয়ম না ঘটে তা নিশ্চিত করতে এ বারই প্রথম ৫০টি প্রদেশের সবক’টি বুথে নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন বিচারবিভাগ।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতোই চার বছর অন্তর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৩৫টি সাধারণ আসনের সব ক’টিতেই ভোটগ্রহণ হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোটগ্রহণ হচ্ছে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘ভোটদানের ক্ষমতাহীন’ ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি এবং ৩৬টি প্রদেশ (স্টেট) আর ৩টি টেরিটরির গভর্নর পদে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তা হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার তাদের সমর্থন ছাড়া ওই কক্ষে কোনও আইন পাস করতে পারবে না।
যদি বিরোধী ডোমোক্র্যাট শিবিরে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায়, আগামী দু’বছর চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে ট্রাম্পকে। ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে দুঃসংবাদ হবে, সে ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন নথিপত্র ও সাক্ষীদের তলব করতে পারবে। এমনকী, শুরু করতে পারবে তৃতীয় বার ট্রাম্পকে বরখাস্ত (ইমপিচ) করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও! সাধারণ ভাবে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি নকশা মেনে চলে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই কিছুটা আসন কমে যায় ক্ষমতাসীন দলের। সেই হিসাবে এ বার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কিছুটা স্বস্তিতে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। যদি কোনও মধ্যবর্তী নির্বাচনে চেনা ছকের বাইরে গিয়ে, শাসকদলই কংগ্রেসে বেশি আসন জেতে (মার্কিন রাজনীতিতে বেশ কয়েক বার সে রকম ঘটেছে), তা হলে তা প্রেসিডেন্টের সমর্থনে বিপুল গণভোট বলেই ধরা হয়।
আরও পড়ুন:
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে সে রকম কিছু হলে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান নিশ্চিত ভাবেই আরও মজবুত হবে। বস্তুত, পশ্চিমী দুনিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম লিখেছে, এ বারের মধ্যবর্তী নির্বাচন কার্যত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের উপর গণভোটে পরিণত হয়েছে। বিশেষত, ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রচারে নেমেছে ডেমোক্র্যাট শিবির। বর্তমানে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮ এবং ডেমোক্র্যাটদের আছে ২১৪টি আসন রয়েছে। অন্য দিকে, সেনেটে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ৪৭টি এবং রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাট শিবিরকে চারটি আসন বাড়াতে হবে। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষা বলছে, সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে তারা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমেরিকাতেও দেখা গিয়েছে দলবদলের খেলা। রবিবার নাটকীয় ভাবে মিশিগান প্রদেশে রিপাবলিকান সেনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থনে সভা করেছেন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স।