কার্তিকঠাকুরকে নিয়ে আমার কৌতূহল শুধু তাঁর রূপকে ঘিরে নয়, তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া ইতিহাস নিয়েও। ঘরের ছোট ছেলে ঠিক যে ভাবে থাকে। মা-বাবার আদর পান, দিদি-বোনেদের কাছেও জনপ্রিয়। বান্ধবীদের কাছেও প্রশ্রয় পেয়ে থাকেন কার্তিক। তাঁর হাতে যে তির-ধনুক, তা দিয়ে পরিবার পরিজনদের পাশাপাশি এক বৃহত্তর পরিবারকেও আগলে রাখেন, একেবারে রক্ষাকর্তার মতো।
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, কার্তিক ছাড়াও স্কন্দ, কুমার ও মহাসেন— একাধিক নামে পরিচিত দেবতা তিনি। কার্তিক হল যুদ্ধ ও বীরত্বের প্রতীক। শিব-পার্বতীর পুত্রকে যুদ্ধের দেবতা এবং পুরুষ সৌন্দর্যের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দক্ষিণ ভারতে তিনি মুরুগন বা সুব্রহ্মণ্য নামে বিশেষ জনপ্রিয়। অর্থাৎ, কার্তিকের এই সুদর্শন রূপ কেবল বাংলায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতিতেও তার স্বীকৃতি রয়েছে।
কার্তিক হলেন যুদ্ধ ও বীরত্বের প্রতীক। ছবি: সংগৃহীত।
কিন্তু বাংলায় এসে কার্তিক যেন অন্য এক সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছেন। এখানে তিনি শুধু দেবসেনাপতি নন, ‘বাবু কার্তিক’ নামেও পরিচিত— সুদর্শন, সাজানোগোছানো এক যুবকের প্রতিচ্ছবি। পুরনো কলকাতার বাবু সংস্কৃতির সঙ্গে কার্তিকের এই রূপের সংযোগ বিশেষ ভাবে লক্ষণীয়। কোঁকড়ানো চুল, অলঙ্কার এবং পরিপাটি সাজ যেন তাঁকে পৌরাণিক দেবতার পাশাপাশি এক সামাজিক কল্পনার চরিত্রেও তুলে এনেছে।
আমার চুল কোঁকড়ানো বলে অনেক বন্ধুই ছোটবেলায় মজা করে বলত, আমাকে নাকি কার্তিকের মতো দেখতে। তবে কার্তিকের একটা ‘লাভার বয়’ ইমেজ আছে। বাংলার কার্তিকপুজোর ইতিহাসেও রয়েছে নানা সামাজিক স্তর। কিছু অঞ্চলে কার্তিককে পৌরুষ, সন্তানলাভ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে।
এখনও বাড়িতে বাড়িতে বন্ধুরা কার্তিক ফেলে আসে, নিছকই মজা করে। এই বিশ্বাসগুলি অবশ্য সমাজের বিশ্বাস। আমার কাছে এই বৈচিত্রই কার্তিকঠাকুরকে আকর্ষণীয় করে তোলে। একদিকে তিনি পৌরাণিক বীর, অন্যদিকে বাঙালির শিল্প ও লোকবিশ্বাসে সুদর্শন প্রেমিকের প্রতিচ্ছবি। কার্তিকের ‘লাভার বয়’ ইমেজ নিয়ে যতই আলোচনা হোক, তার পিছনে রয়েছে বহু শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা ধর্মীয় কাহিনি। তাই কার্তিককে ছোট ভাইয়ের মতোই লাগে। তাঁর সৌন্দর্যে মুগ্ধ আট থেকে আশি, তবে তাঁকে যুবসমাজের তারকা বললেও ভুল হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা