সমাজে একটা ভুল ধারণা আছে যে, লোকে জিম করে কেবল রোগা হওয়ার জন্য। আর সেই ভ্রান্ত ধারণাই ভাঙতে চান অভিনেত্রী ইশা সাহা। সারাবছর শারীরচর্চা না করে পুজোয় সুন্দর দেখাতে দু’মাস জিম করার পক্ষপাতী নন তিনি। তাই বছরভর নিয়মিত জিম করে ফিট থাকার চেষ্টা করেন। তবে তা নিয়েও কম কথা শুনতে হয় না। তিনি রোগা বলে নানাবিধ কটাক্ষ ভেসে আসে চারদিক থেকে। তবে সে সব নিয়ে বিচলিত নন নায়িকা। বরং জিমে দাপট দেখাতেই তিনি ভালবাসেন। নিজের ফিটনেসের খুঁটিনাটি জানালেন আনন্দবাজার ডট কম-কে।
পুজোর সময়ে সমস্ত নিয়মকানুনের বেড়া ভেঙে খাওয়াদাওয়া করবেন ইশা। সে কথা সাফ জানিয়ে দিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরানোর জন্য পুজোর পাঁচ দিনও জিম করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সদ্যই জানতে পেরেছেন, তিনি যে জিমে যান, তা বন্ধ থাকবে। অগত্যা নিজের বাড়িতেই শারীরচর্চা করবেন বলে স্থির করেছেন। বাড়িতে নানারকমের সরঞ্জাম কেনাই রয়েছে। কিন্তু পুজোর আনন্দের মাঝেও ব্যায়ামকে বাদ রাখবেন না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা যে রকম রোজ খাবার খাই, দাঁত মাজি, শারীরচর্চা করাটাও সে রকমই। তাই কোনও দিনই বাদ দেওয়া উচিত নয়। আর অনেক সময়ে যেটা হয়, পুজোর ৪-৫ দিন ব্যায়াম বন্ধ রাখলে তার পর আবার নিজেকে টেনে তুলে জিমে নিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই জিম করতে পারলে ভালই লাগত। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বাড়িতেই করব অল্প করে।’’
পুজোর পাঁচ দিনও জিম করার ইচ্ছা রয়েছে ইশার। ছবি: সংগৃহীত।
ইনক্লাইন ওয়াক ছাড়া কার্ডিয়ো খুব একটা পছন্দ নয় ইশার। কিন্তু ওজন তোলায় আনন্দ পান। ডাম্বেল নিয়ে নানা ধরনের ব্যায়াম করেন তিনি। ইশার কথায়, ‘‘আমাদের যত বয়স বাড়ে, ততই বিপাকীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা হতে থাকে, গায়ের জোর কমে যেতে শুরু করে, তাই নিজেকে একটু বেশি জোর দিয়ে ব্যায়াম করি আমি। ওজন একটু একটু বাড়াতে থাকি, ব্যায়ামের সংখ্যা বাড়াতে থাকি। নয়তো শরীর একই রকমের ব্যায়াম ও ওজনে সয়ে যাবে। সেটা হতে দিই না। রোজ একটুআধটু বদলাতে থাকি, শরীরকে চমকে দিই, বলা যেতে পারে।’’ তবে পায়ের ব্যায়াম নিয়ে খানিক ভয় রয়েছে ইশার। গত বছর পুজোর সময়ে পা ভেঙেছিল। তাই পায়ের ব্যায়ামে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
হাতে যথেষ্ট সময় থাকলে এক-এক দিন শরীরের এক-একটা অংশকে বেশি সময় দেন ইশা। নয়তো রোজ মিলিয়েমিশিয়ে ব্যায়ার করেন জিমে। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন জিমে গিয়ে কমপক্ষে এক ঘণ্টা শারীরচর্চা করেন ইশা। দিনটা ফাঁকা থাকলে এই সময়টা আরও বাড়ে।
আরও পড়ুন:
ছিপছিপে, তন্বী চেহারা ইশার। তবু জিম ও শারীরচর্চা নিয়ে এত কড়াকড়ি কেন? ইশার বক্তব্য, ‘‘এখানেই লোকে ভুল করে। কেবল রোগা হওয়ার জন্য জিম করে না কেউ। আমাদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি দুর্বল হতে থাকে, তাই ওজন না তুললে আরও দুর্বল হয়ে যাবে। তার উপরে মহিলাদের তো আরও কিছু শারীরিক সমস্যা শুরু হয় বয়সে, সেগুলোর সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্যও জিম করা উচিত। আমি ফিট থাকার জন্যই এত মন দিয়ে জিম করি। রোগা হওয়ার জন্য নয়। তার উপরে আমি এমনিতেই রোগা বলে কম কটাক্ষের শিকার হতে হয় না। কিন্তু আমি যথেষ্ট ওজন তুলতে পারি। চেস্ট প্রেসে কখনও-সখনও ১৫ কেজির ওজনও তুলেছি। সেটা আমি ফিট বলেই। তার জন্য আমায় নিজের ওজন বাড়াতে হয়নি।’’
তবে এখন কেবল জিম নয়, আরও নানা ভাবে ফিট থাকার ইচ্ছে জেগেছে অভিনেত্রীর। তাই জিমে শারীরচর্চার পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য ক্লাবের খোঁজে রয়েছেন তিনি। তাই এর পর থেকে হয়তো শহরের কোনও ক্লাবে ব্যাডমিন্টন খেলতেও দেখা যাবে ইশাকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা