দুর্গাপুজোর আসল আনন্দটা বোধ হয় ধরা পড়ে বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্যটির চোখেই। সারাদিন ধরে ঠাকুর দেখার উন্মাদনা তাদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি। নতুন জামা পরে ভিড় ঠেলে এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেলে ঘুরেও তাদের চোখেমুখে ক্লান্তির লেশমাত্র থাকে না।
কখনও চড়া রোদ, কখনও আবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ছে। বাড়ির খুদেকে নিয়ে যদি ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা থাকে, তা হলে বাবা-মাকে কিছু দিকে খেয়াল রাখতেই হবে। এই বিষয়ে চিকিৎসক অর্পণ সাহা আনন্দবাজার ডট কমকে বললেন, “ছ’মাসের নীচে শিশুকে নিয়ে পুজোর ভিড়ে একেবারেই বেরোনো যাবে না। ছ’মাস থেকে ১ বছরের শিশুদের পাড়ার প্যান্ডেল বা কাছেপিঠে নিয়ে যেতে পারেন। তবে খুব বেশি দূরে না যাওয়াই ভাল। ১-২ বছরের বেশি বয়সি শিশুকে নিয়ে বেরোতে হলে ভিড় এড়িয়েই চলতে হবে। দু’বছরের পর শিশুদের নিয়ে প্যান্ডেল হপিং করা যেতে পারে।’’
বাইরে বেরোনোর আগে শিশুর মিল প্ল্যানিংটা করে নিন। রাস্তার খাবার শিশুদের খাওয়ানো যাবে না একেবারেই। বাইরের জল, ফলের রস, রঙিন শরবত, আইসক্রিম শিশুকে ভুলেও দেবেন না। খুদের খাবারটা বাড়ি থেকেই নিয়ে বেরোন। মূল খাবার ছাড়াও বাড়িতে তৈরি কিছু মুখোরোচক স্ন্যাক্সও সঙ্গে রাখুন। চিকিৎসকের মতে, ঠাকুর দেখতে গিয়ে শিশুর ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস করলে চলবে না। ঠিকমতো ঘুম না হলে শিশুর মেজাজ বিগড়ে থাকবে, পুরো ঘোরাটাই মাটি হবে। তাই ঠাকুর দেখতে যাওয়ায় সময় শিশুর ঘুমের সময়টা এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন:
বাড়ির খুদেটিকে নিয়ে যখন ঠাকুর দেখতে যাবেন, তখন ব্যাগে করে কিছু জিনিস অবশ্যই নিতে হবে। দেখে নিন, কী কী রাখবেন সেই তালিকায়।
১) পুজোয় ভ্যাপসা গরমই থাকবে, সেই সঙ্গে বৃষ্টিও হতে পারে। তাই শিশুকে হালকা সুতির পোশাক পরান। অবশ্যই কিছু পোশাক সঙ্গে রাখবেন। বৃষ্টি বা ঘামে শিশুর পোশাক ভিজে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বদলে ফেলতে হবে।
২) সঙ্গে জল অবশ্যই রাখতে হবে। গরমে শরীর আর্দ্র রাখা খুব জরুরি। ঘণ্টায় ঘণ্টায় জল খাওয়াতে হবে শিশুকে। না হলেই তার শরীর খারাপ হবে।
৩) শুকনো খাবার সঙ্গে রাখতে হবে। উৎসবের সময়ে বাইরের খাবার মানেই তেলমশলার ছড়াছড়ি। খুদেকে সে সব না খাওয়ানোই ভাল। তার চেয়ে বিস্কুট, কেক বা তার পছন্দের কিছু খাবার ব্যাগে রাখতে পারেন। কাজে লেগে যাবে।
৪) ঘরে ঘরে এখন ভাইরাল জ্বর কিংবা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হচ্ছে। তাই রোগবালাইয়ের ঝুঁকি থেকে খুদেকে বাঁচাতে ব্যাগে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার রাখতেই হবে। ওআরএস-ও সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না।
৫) শিশুর হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের ধাত থাকলে সঙ্গে ইনহেলার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ অবশ্যই রাখতে হবে। নতুন জুতো পরে শিশুর পায়ে ফোস্কা পড়তে পারে, তাই ব্যান্ডেজ টেপও সঙ্গে রাখতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা