শাস্ত্রমতে দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুপত্নী। সম্পদ, সৌভাগ্য, সৌন্দর্য্য, আধ্যাত্মিকতা এবং সমৃদ্ধির দেবী মা লক্ষ্মী। ভগবান বিষ্ণু যেমন বিভিন্ন রূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছেন, তেমনই লক্ষ্মীদেবীও বিভিন্ন রূপে পূজিত হন। বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, দেব এবং অসুরের ক্ষীরসাগর মন্থনকালে দেবী লক্ষ্মীর আবির্ভাব। শাস্ত্রমতে দেবী লক্ষ্মীর আটটি রূপ।
১. আদিলক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মী, ২. ধনলক্ষ্মী (অর্থ) ৩. ধান্যলক্ষ্মী (খাদ্য), ৪. গজলক্ষ্মী বা ভাগ্যলক্ষ্মী, ৫. সন্তানলক্ষ্মী, ৬. বীরলক্ষ্মী বা ধৈর্যলক্ষ্মী, ৭. বিজয়লক্ষ্মী বা জায়ালক্ষ্মী, ৮. বিদ্যালক্ষ্মী।
আরও পড়ুন:
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, লক্ষ্মীদেবী বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন নামে এবং বিভিন্ন আচারে পূজিত হন। স্থান ও কাল ভেদে কিছু আচারে পরিবর্তন থাকলেও প্রধাণত কোজাগরী লক্ষ্মী, অলক্ষ্মী বিদায় ও লক্ষ্মীপুজো, এবং ধান্যলক্ষ্মী রূপেই দুই বঙ্গে দেবী অধিক পূজিত হন। এছাড়া, আঞ্চলিক প্রথা অনুযায়ী অন্যান্য রূপেও পূজিত হন।
বিভিন্ন পুজোর সময় এবং পুজোর রীতি ভিন্ন। কোজাগরী লক্ষ্মী রূপে দেবী পূজিত হন শারদীয়া দুর্গাদেবীর বিসর্জনের পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে। প্রচলিত প্রবাদ মতে, দেবী লক্ষ্মীর পুজো করে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে যে ব্যক্তি দেবী লক্ষ্মীর আগমনের অপেক্ষা করেন, তাঁর গৃহ দেবীর আশীর্বাদে সমৃদ্ধ হয়। রাত জাগার সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই, অর্থাৎ, ‘কে জেগে আছো’ থেকেই কোজাগরী নামের উৎপত্তি।
আরও পড়ুন:
অলক্ষ্মী বিদায় এবং লক্ষ্মী পুজো- দীপান্বিতা অমাবস্যায় বাড়ির বাইরে বা বাড়ির উঠোনে প্রতীকী অলক্ষ্মী পুজো করে কুলো, শাঁখ, ঘণ্টা বাজিয়ে অলক্ষ্মীকে বাড়ির বাইরে বার করে দেওয়া হয়। অলক্ষ্মী বিদায় করে গৃহে লক্ষ্মীদেবীর পুজো করা হয়। অলক্ষ্মী বিদায়ের সম্পর্কের কারণে এই পুজোকে অলক্ষ্মী এবং লক্ষ্মী পুজো বলা হয়।
ধান্য লক্ষ্মীর পুজো ভাদ্র, পৌষ এবং চৈত্র মাসে হয়।
নতুন ধানের উপর পিতল বা কাঠের লক্ষ্মী-নারায়ণ, পেঁচা, কচ্ছপ, মাছ ইত্যাদির মূর্তি, সিকি বা কয়েন, গাছকৌটো, সিঁদুর কৌটো, দর্পণ, সোনা-রুপোর টুকরো ইত্যাদি দিয়ে লক্ষ্মীর সাজ সাজিয়ে লক্ষ্মীকে দেবী রূপে পুজো করা হয়। ধানের উপর পুজো করা হয় বলেই একে ধান্যলক্ষ্মীর পুজো বলা হয়।
ভাদ্র মাসে মান পাতার উপর বা মান পাতা এঁকে, পৌষ মাসে ধানের সিসের উপর বা ধানের সিস এঁকে, এবং চৈত্র মাসে তিলের উপর নতুন ধান ঢেলে, তার উপর লক্ষ্মীর সাজ সাজিয়ে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়।