বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘরে ‘ওয়াটারফল বুদ্ধ’ বা জলপ্রপাত-সহ বুদ্ধের মূর্তি রাখা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এটি ঘরে ইতিবাচক শক্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। বহমান জলের মৃদু শব্দ এবং ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের উপস্থিতি মনের উপর শান্ত প্রভাব ফেলে। এটি সারা দিনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। বাস্তুমতে, বহমান জল ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ সচল রাখে, যা ঘরের স্থবির বা নেতিবাচক শক্তিকে দূর করে।
জল হল সম্পদের প্রতীক। ঘরে জলের অবিরাম প্রবাহ আর্থিক উন্নতি, নতুন সুযোগ এবং পেশাজীবনে সাফল্যের পথ সুগম করে। ঘরের নির্দিষ্ট কোণে এটি স্থাপন করলে বাস্তুদোষ কেটে যায় এবং পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পায়। ওয়াটারফল বুদ্ধের মূর্তি ঘরের সঠিক দিকে স্থাপন করলে তার সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তু না মেনে ভুল দিকে রাখলেই হিতে বিপরীত হয়। নীচে তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
আরও পড়ুন:
- বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর দিক হল জলতত্ত্ব এবং ধনের দেবতা কুবেরের দিক। এই দিকে ওয়াটারফল বুদ্ধ রাখলে পেশাজীবনে নতুন সুযোগ আসে এবং আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটে।
- উত্তর-পূর্ব দিককে ঈশ্বরের দিক বা অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। এখানে ওয়াটারফল বুদ্ধের মূর্তি রাখলে পরিবারের সদস্যদের আধ্যাত্মিক উন্নতি হয় এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
- পূর্ব দিক হল সূর্য ও সামাজিক সম্পর্কের দিক। এই দিকে ওয়াটারফল বুদ্ধের মূর্তি রাখলে পরিবারের সুখ-শান্তি বাড়ে এবং মান-সম্মান বৃদ্ধি পায়।
- খেয়াল রাখবেন, জলপ্রপাতের জলের প্রবাহ যেন সব সময় ঘরের ভিতরের দিকে থাকে। বাইরের দিকে বা সদর দরজার দিকে যেন না যায়। জলের প্রবাহ ভিতরের দিকে থাকার অর্থ হল ঘরে ধনসম্পদ প্রবেশ করছে।
আরও পড়ুন:
- দক্ষিণ দিক হল অগ্নিতত্ত্বের দিক। আগুন এবং জল পরস্পরবিরোধী। তাই দক্ষিণ দিকে ওয়াটারফল বুদ্ধের মূর্তি রাখলে ঘরে অশান্তি বা আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।
- শোয়ার ঘরে এই ধরনের মূর্তি রাখা উচিত নয়। বহমান জলের শক্তি শোয়ার ঘরের শান্তি ব্যাহত করতে পারে এবং ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- রান্নাঘর আগুনের জায়গা এবং শৌচালয় হল নেতিবাচক শক্তির উৎস। এই দুই জায়গায় ওয়াটারফল বুদ্ধের মূর্তি রাখা বাস্তুমতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- সিঁড়ির নীচের অংশে এই ধরনের মূর্তি রাখা উচিত নয়। এর ফলে শক্তির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।