দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই এসে পড়ে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এই পুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত আলপনা। জনশ্রুতি, মা লক্ষ্মী দেখেন, কোন গৃহে তাঁর ভক্ত আলো জ্বেলে দুয়ার খুলে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে, সেই গৃহে তিনি প্রবেশ করেন। তাই আঁকা থাকে পদচিহ্নের আলপনা। বিশ্বাস, ওই পদচিহ্ন ধরে মা প্রবেশ করেন ভক্তের ঘরে।
শুধু পদচিহ্ন নয়, লক্ষ্মীর আরাধনায় মেঝে, দুয়ার সেজে ওঠে রকমারি নকশায়। আগে যে আলপনা দেওয়া হত চালের পিটুলি দিয়ে, এখন তাতে ব্যবহার হয় অ্যাক্রিলিক রং। এই ধরনের রঙের ব্যবহারের ফলে, আলপনা মেঝেতে রয়ে যায় বছরের পর বছর।
তবে তার স্থায়িত্বেরও মেয়াদ রয়েছে। আলপনা দেখতে সুন্দর লাগলেও, যখন খাপছাড়া ভাবে রং উঠতে শুরু করে তা আর সুদৃশ্য থাকে না। আবার নতুন আলপনা আঁকতে গেলেও মেঝে পরিষ্কার করা জরুরি হয়ে ওঠে। কিন্তু চাইলেই এই ধরনের রং তুলে ফেলা যায় না। তখন কী করণীয়?
তারপিন তেল
আলপনার নকশা তারপিন তেলে কিছুক্ষণ ভিজতে দিন। তার পর কাপড় দিয়ে ঘষে নিন। লাল বা কালো সিমেন্টের মেঝে হলে, কড়াই পরিষ্কারের স্ক্রাবার দিয়ে ঘষুন। ধীরে ধীরে রং উঠে যাবে।
আরও পড়ুন:
গরম জল এবং তরল সাবান
আলপনা অ্যাক্রিলিক রঙের হলে এই পন্থা কাজে আসতে পারে। বেশ কিছুটা গরম জলে বাসন মাজার তরল সাবান মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি পুরনো আলপনার উপর ঢেলে অন্তত ১০–১৫ মিনিট ভিজতে দিন। রং নরম হয়ে এলে একটি ছোবড়া বা ভেজা কাপড় দিয়ে ঘষে দিলেই দাগ ধীরে ধীরে উঠবে। লাল বা কালো রঙের সিমেন্টের মেঝেতে এই প্রক্রিয়া কাজে লাগবে।
বেকিং সোডা ও সাদা ভিনিগার
আলপনা যদি খুব পুরনো হয় এবং মেঝেতে বসে যায়, তা হলে সাদা ভিনিগার এবং বেকিং সোডার মিশ্রণ দিয়ে তা তোলার চেষ্টা করুন। মেঝের উপর প্রথমে কিছুটা বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিন, তার ওপর সামান্য ভিনিগার ঢালুন। এতে বুদবুদ তৈরি হবে। মিশ্রণটি আলপনার উপর ৫–১০ মিনিট রেখে একটি নরম ব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে নিন। এর পর ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে নিন। একবারে না হলে, বার দুই-তিন এই কৌশল প্রয়োগ করলে ধীরে ধীরে পুরনো আলপনা উঠে যাবে।
নেলপলিশ রিমুভার বা আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল
অনেকেই আলপনা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য স্টেনার বা তেলরং মিশিয়ে আলপনা দেন, যা সহজে উঠতে চায় না। একটি তুলোর বল বা কাপড়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেলপলিশ রিমুভার কিংবা আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল নিয়ে আলপনার উপর কয়েক মিনিট চেপে ধরে রাখুন। রং উঠতে শুরু করলে ধীরে ধীরে মুছে নিন।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
মার্বেল বা টাইলসের মেঝেতে অনেক সময় আলপনা উঠে গেলেও হলদেটে বা হালকা দাগ থেকে যায়। আলপনা তোলার পর সেই জায়গায় সামান্য হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড জলে গুলে মুছে নিন। এতে মেঝের চকচকে ভাব ফিরে আসবে।
মনে রাখা জরুরি
অ্যাসিড বা ভিনিগার ব্যবহার করার পর মেঝে অবশ্যই পরিষ্কার জল দিয়ে মুছে নিতে হবে। বিশেষ করে, মার্বেলের মেঝের ক্ষেত্রে অ্যাসিডযুক্ত উপাদান দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখলে মেঝে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আলপনা তুলতে ভুলেও ছুরি, ব্লেড বা ঝামা ব্যবহার করবেন না। এতে মেঝের পালিশ নষ্ট হতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা