‘তালপাকা ভাদ্র’-র মরসুম শেষ হয়েছে। কার্তিক মাসে তাই পাকা তালের চেয়েও তাল ফোপরার কদর থাকে বেশি। ভাদ্রে পাকা তাল দিয়ে ক্ষীর, লুচি, মিষ্টি বানানোর পরে সেই শাঁস ছেঁচে নেওয়া শক্ত আঁটিটিও কিন্তু বাতিলের খাতায় নাম লেখায় না। বরং সেই আঁটি মাটিতে বা ছাইয়ের গাদায় পুঁতে রেখে দিলে একসময় তা থেকে অঙ্কুর বেরোয়। শক্ত আঁটি দু'আধখানা করলে বেরিয়ে আসে নরম স্বাদু ফোপর।
কোজগরী লক্ষ্মীপুজোয় চিঁড়ে, মুড়কি, নাড়ু, ফলের পাশাপাশি প্রসাদের থালায় ঠাঁই হয় তাল ফোপরেরও। পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে নানা জেলায় তার হরেক নাম। তালাকুর, তাল গজল, তাল কল— কত নামেই না লোকজন চেনেন এই খাদ্যদ্রব্যটিকে। তবে পুষ্টিতে ভরপুর তাল ফোপর নামটি বিশেষ পরিচিত। ফোপর বার করে কুচিয়ে কোজগরী লক্ষ্মীপুজোর থালায় তা নিবেদন করা হয়।
আরও পড়ুন:
তবে লক্ষ্মীপুজোর দিনে ভক্তদের আকুতি শুধু ধন-সম্পদের থাকে না। এই পুজোর প্রসাদের প্রতিও ছোট-বড় সকলেরই বাড়তি নজর থাকে। খিচুড়ি ভোগ, লাবড়া তো রয়েছেই, লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদ মানেই রকমারি নাড়ু, তক্তি, পায়েস। এ বার প্রসাদের পায়েসটি হতেই পারে অন্য রকম। তাল ফোপর দিয়ে বানিয়ে ফেলুন সু্স্বাদু ভোগ।
উপকরণ
১ লিটার ঘন দুধ
৭-৮টি তাল ফোপর
২ টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ
২টি ছোটএলাচ
১টি তেজপাতা
স্বাদমতো চিনি
২ টেবিল চামচ কন্ডেন্সড মিল্ক
প্রণালী: তাল ফোপর বার করে কুরিয়ে নিন। কোরাতে না চাইলে ফোঁপরগুলি ছোট টুকরো করে কেটেও নিতে পারেন। পায়েসের জন্য দুধ নিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। জ্বাল দেওয়ার সময় সুগন্ধের জন্য তেজপাতা এবং ছোটএলাচ দুধে যোগ করুন। ২ টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ গুলে পায়েসের দুধে মিশিয়ে দিন। এতে স্বাদ বাড়বে। তাল ফোঁপরাগুলি দুধে দিয়ে ফুটিয়ে নিন। চিনি দিন শেষের দিকে। যোগ করুন কন্ডেন্সড মিল্কও। এত পায়েস ঘন হবে এবং স্বাদও বাড়বে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
- উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
- সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
-
শতবর্ষপ্রাচীন প্রতিমার পুজোর ভোগে ১০ রকমের খাবার! দেবাদৃতার ঘরোয়া লক্ষ্মীপুজো ঠিক কেমন হল
-
ঘরোয়া ভাবে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এ বার লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার! দেবীর কাছে কোন বিশেষ প্রার্থনা করবেন তিনি?
-
‘মায়ের পছন্দ না হলে আমার হাত দিয়ে অন্য কিছু করান,’ অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় এ বার কী কী আয়োজন?
-
কেন জোড়া ইলিশ দেওয়া হয় লক্ষ্মীপুজোয়? তেল-মশলা ছাড়াই বানানো হয় ভোগপ্রসাদ, রন্ধনের নিয়মও আলাদা
-
লক্ষ্মীলাভে কেন পিছিয়ে বাংলা ছবি, কোন পথে আসবে সমৃদ্ধি? কী বলছেন প্রযোজক-পরিচালক-অভিনেতারা