Advertisement
E-Paper

শুধু ‘পুজো পারপাসে’র সঙ্গী! ঠাকুর দেখা, হাত ধরে ঘোরা, কিন্তু দশমীতে প্রেম-বিসর্জন, পাওয়া যাবে কী ভাবে

সমাজমাধ্যমের পাতায় একটু খুঁজলেই দেখতে পাবেন, সঙ্গী ভাড়া করার পোস্ট। মন্তব্যবাক্সও ভরে উঠছে মুহূর্তে। কেউ ফোন নম্বর দিচ্ছেন, কেউ আবার টাকাপয়সার লেনদেনের কথাও বলছেন। আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৭
কেবল পুজোর জন্য একা থেকে দোকা হতে চাইছেন?

কেবল পুজোর জন্য একা থেকে দোকা হতে চাইছেন? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

পঞ্চমীতে শুরু, দশমীতে ভাসান। পুজো নয়, আপনার প্রেমের কথা বলা হচ্ছে। সম্পর্কের বিড়ম্বনা থেকেও বাঁচবেন, আবার পুজোও কাটবে দোকায় দোকায়। অবাক হচ্ছেন? কিন্তু এ তো নতুন নয়। বিদেশ-বিভুঁইয়ের কথা না হয় ছেড়েই দিন, দেশেও বছর কয়েক ধরে এমন ভাবেই প্যাকেজ তৈরি করে নিচ্ছেন অনেকে। একলা উৎসব না কাটানোর উপায় বলা ভাল। অবশ্যই উদ্যোক্তা নতুন প্রজন্ম। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটু খুঁজলেই দেখতে পাবেন, সঙ্গী ভাড়া করার পোস্ট। মন্তব্যবাক্সও ভরে উঠছে মুহূর্তে। কেউ ফোন নম্বর দিচ্ছেন, কেউ আবার টাকাপয়সার লেনদেনের কথাও বলছেন। কোথাও আবার নেটপ্রভাবীরা সঙ্গী ভাড়া করার টিপ্‌সও ভাগ করে নিচ্ছেন অনুরাগীদের সঙ্গে। উদ্দেশ্য একটাই, একসঙ্গে মণ্ডপ-সফর, ঠাকুর দেখা, রেস্তরাঁয় খেতে যাওয়া, শহর ঘুরে দেখা। কিন্তু সেই সঙ্গের মেয়াদ ৪-৫ দিনের। তার পরেরটা না হয় তার পরেই ভাবা যাবে।

পুজোয় সঙ্গীর প্রয়োজন?

পুজোয় সঙ্গীর প্রয়োজন? ছবি: সংগৃহীত

'আমাকে পুজো পারপাসে নয় তো?'

প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতার এই পংক্তিটিই এখন বড্ড বেশি প্রাসঙ্গিক। এখন পুজো উপলক্ষে মিলছে সঙ্গীও। পঞ্চমীতে শুরু হয়ে দশমীতে প্রেমের বিসর্জন। গত কয়েক বছর ধরে জামাকাপড় শপিংয়ের মতোই প্রকাশ্যে ‘সঙ্গী শপিং’-ও চলছে সমাজমাধ্যম থেকে নানা ‘ডেটিং অ্যাপ’-এ। ‘পুজো পারপাসে’ দোকা হওয়ার নানা সুবিধাও রয়েছে। রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে অনলাইনে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রেও যুগলের জন্য প্রচুর অফার-টফার পাওয়া যায়। অথবা নাইট ক্লাব গেলেও সঙ্গী থাকলে বাড়তি সুবিধা। তা সে ‘একটা কিনলে একটি বিনামূল্যে’ হোক বা ‘জোড়ায় কিনলে কম দাম’-ই হোক। তা হলে জোড়ায় না থাকলে সুবিধা পাবেন কেমন করে? আর তাই সিঙ্গলদের নয়া কৌশল, সঙ্গী ভাড়া করা। কখনও সেখানে টাকাপয়সার গল্প থাকে, কখনও বা দুই সিঙ্গলই দোকায় আনন্দ করেন। ধরুন, আপনার বন্ধুরা সবাই জোড়ায় জোড়ায় বেরোচ্ছেন। আপনি একা। সপ্তমীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার মণ্ডপগুলি ঘুরে ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু একা যেতে ভাল লাগছে না। অথবা অষ্টমীর দুপুরে নতুন শাড়ি পরে ছবি তুলবেন। ছবি তোলার লোক আছে, কিন্তু ছবিতে পাশে দাঁড়ানোর লোক নেই। অথবা বাড়িতে প্রশ্ন— ‘‘পুজোয় কোথায় যাচ্ছ? কার সঙ্গে?’’ এই সমস্ত উত্তর থেকে বাঁচাতে পারেন ভাড়া করা সঙ্গীই।

পুজো দেখবেন কারও হাত ধরেই।

পুজো দেখবেন কারও হাত ধরেই। ছবি: সংগৃহীত

বয়ফ্রেন্ড চাই বয়ফ্রেন্ড! গার্লফ্রেন্ড চাই গার্লফ্রেন্ড!

শুনে আজব লাগলেও ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ বা অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পুরুষ সঙ্গীর বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে চলতি বছরেই। কোথাও সিনেমার সঙ্গী, কোথাও কেনাকাটার, কোথাও আবার বাইরে যাওয়ার বা হাসপাতালে যাওয়ার সময়ে সঙ্গ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তা হলে প্রশ্নটা হল, পুজোর চার দিনের জন্যও কি সত্যিই ‘সঙ্গী বুক’ করা যায়? মনগড়া নয়, এমন ঘটনার উদাহরণ আপনারই চারদিকে রয়েছে। সমাজমাধ্যমের পাতায় অনেকেই এমন পোস্ট করেছেন, ‘‘অমুক তারিখ থেকে তমুক তারিখ পর্যন্ত কলকাতা শহরে থাকব। পুজো দেখার জন্য সঙ্গী চাই। কেউ উৎসুক?’’ কেউ আবার লিখেছেন, ‘‘পুজো দেখার জন্য এমন এক সঙ্গী চাই, যাঁর মধ্যে আমার মতোই উন্মাদনা রয়েছে দুর্গাপুজো নিয়ে।’’ কোথাও আবার কেউ উত্তর দিয়েছেন, তিনি রাজি শহর ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য, কিন্তু তার জন্য পারিশ্রমিক দরকার। কেউ আবার সোজাসাপটা জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি উৎসাহী।

বিশ্ব জুড়ে ভাড়াটে সঙ্গীর চাহিদা

জাপান কিন্তু বহু দিন আগেই এই খেলায় নেমেছে। সে দেশে সত্যিই প্রেমিক ও প্রেমিকা ভাড়া করার পরিষেবা রয়েছে। পেশাদার সংস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নারী বা পুরুষ সঙ্গী বুক করা যায়। কফি খাওয়া, ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা, উৎসবে যাওয়া কিংবা নিছক গল্প করা— পরিষেবার ধরন সংস্থাভেদে আলাদা। কেবল বন্ধু চাইলে ঘণ্টাপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা থেকে খরচ শুরু হয় আর প্রেমিক বা প্রেমিকা চাইলে ঘণ্টাপ্রতি প্রায় চার হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চলে যায়। তবে জাপান এ সব পরিষেবার বিষয়ে খুব সতর্ক। এই পরিষেবাগুলিতে শারীরিক সম্পর্কের অবকাশ থাকে না। জাপানি পরিষেবার বর্ণনা অনুযায়ী, গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সঙ্গী বেছে নেন, সময় ও জায়গা ঠিক করেন, তার পর কফি খাওয়া, শহর ঘোরা, কেনাকাটা বা কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়। সময় শেষ হলে ‘ডেট’-ও শেষ। এখানে প্রেমের প্রতিশ্রুতির বদলে ‘সময়’ই পণ্য। আবার ও দিকে হলিউডে এ নিয়ে যে কত ছবি তৈরি হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। ক্রিসমাসের সময়ে দোকা হওয়ার জন্য এমনই সঙ্গী ভাড়া করার গল্প দেখানো হয়েছে সেখানে। পরে অবশ্য সাময়িক প্রেমই চিরকালীন হয়ে গিয়েছে সেই ছবিগুলিতে। বাস্তবে তা না-ও হতে পারে। সেখানে কলকাতা কেন পিছিয়ে থাকবে? ২০২৪ সালে একটি ‘ডেটিং অ্যাপ’-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতার ৪৩ শতাংশ তরুণ-তরুণী মনে করেন, উৎসবের আনন্দের মধ্যে কোনও বাড়তি চাপ থাকে না। তাই এই সময়েই খুব সহজে তাঁদের সঙ্গীদের পরিচয় করান বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে। এ ছাড়া শহরের প্রতি ৩ জন সিঙ্গলের মধ্যে এক জন উৎসবের দিনগুলিতে মনের মানুষ খোঁজার জন্য অ্যাপ ব্যবহার করেছেন।

তাই আপনিই বা কেন পিছিয়ে থাকবেন? একগুচ্ছ ‘ডেটিং অ্যাপ’ রয়েছে হাতের কাছে। পুজোর কয়েকটা দিনের জন্য সঙ্গীর খোঁজ করা শুরু করে দিতে পারেন। কারও হাত ধরে ঠাকুর দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবেন না।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Durga Puja

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy