Advertisement
E-Paper

ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটুক ছুটি, কলকাতা থেকে মূর্তি-গরুমারা চলুন গাড়িতেই

পুজোর ছুটিতে সফরের জন্য ট্রেন, বাস, বিমানের টিকিট কাটা হয়নি? বেড়ানোর সঙ্গী হতে পারে চারচাকাই। আনন্দবাজার ডট কম-এ থাকছে সড়কপথে ভ্রমণের চেনা-অচেনা গন্তব্যের হদিস।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩০
পুজোর ছুটিতে কলকাতা থেকে গাড়িতেই চলুন ডুয়ার্স। কী ভাবে সাজাবেন সফর, কোথা থেকে কোথায় যাবেন?

পুজোর ছুটিতে কলকাতা থেকে গাড়িতেই চলুন ডুয়ার্স। কী ভাবে সাজাবেন সফর, কোথা থেকে কোথায় যাবেন? ছবি:সংগৃহীত।

বছরভরের ঝক্কি সামলানোর রসদ সংগ্রহ করতে হবে তো! প্রকৃতির স্পর্শ, বুকভরা অক্সিজেন যে চাই-ই চাই। দূষণ, যানজটের শহর ছাড়িয়ে চলুন ডুয়ার্স। সেখানে ক্লান্তি ভোলাবে উপলরাশির উপর দিয়ে তিরতির করে বয়ে যাওয়া নদীর শীতল স্পর্শ। দিগন্তরেখায় অস্তগামী সূর্যের রূপ মন ভোলাবে।

পুজোর ছুটির আগে-পরে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার ট্রেনের টিকিট নিয়ে রীতিমতো হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এ যেন লটারির টিকিটের মতোই। ট্রেন নয়, উত্তরবঙ্গের সড়কসফরও হতে পারে স্মরণীয়। কলকাতা থেকে চারচাকাকে সঙ্গী করে চলুন ডুয়ার্স। ছুটি ক’দিন, তার উপরে নির্ভর করবে পরিকল্পনা। খুব বেশি তাড়াহুড়ো করতে না চাইলে দিন সাতেকে ভালভাবেই ঘোরা যাবে।

শুরুটা হতে পারে রাতে কিংবা কাকভোরে। কলকাতা থেকে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এগিয়ে চলুন। বড়জাগুলি, চাকদহ, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, বেলডাঙা, পলাশি হয়ে বহরমপুর। সেখান থেকে মোরগ্রাম, ধুলিয়ান, ফরাক্কা হয়ে মালদহ। মালদহ থেকে ইটাহার, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, ফুলবাড়ি হয়ে শিলিগুড়ি।

হাজারদুয়ারি ঘুরে নিন।

হাজারদুয়ারি ঘুরে নিন। ছবি:সংগৃহীত।

যে ভাবেই সফর সাজান, প্রথমে চলুন বহরমপুর। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি টানা যাওয়ার ধকল আছে। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১৩-১৪ ঘণ্টা সময় লাগবেই। উদ্দেশ্য যদি বেড়ানোই হয়, একটি দিন রাখুন বহরমপুর ঘোরার জন্য।

সড়কপথে কলকাতা থেকে বহরমপুর প্রায় ২১০ কিলোমিটার, পৌঁছোতে সময় লাগবে চার ঘণ্টারও বেশি। বহরমপুর থেকে আরও ১২ কিলোমিটার দূরে লালবাগ। একটি দিন রাখুন লালবাগ ঘোরার জন্য। দর্শনীয় স্থান এখানে অনেক। তবে অন্যতম আকর্ষণ হাজারদুয়ারি। ১৮৩৭ সালে তদানীন্তন নবাব নাজ়িম হুমায়ুন জাহের বাসের জন্য ব্রিটিশরা ইতালিয়ান শৈলীতে গড়েছিলেন এই ত্রিতল গম্বুজওয়ালা প্রাসাদ। ৮টি গ্যালারি-সহ ১২০ ঘরের এই প্রাসাদের ১০০০ দরজা থেকে এর নাম হয়েছে হাজারদুয়ারি। তবে প্রকৃত দরজা ৯০০, বাকি ১০০ কৃত্রিম। একদিনে হাজারদুয়ারি, মদিনা মসজিদ, বড় ইমামবাড়া, নসীপুর রাজপ্রাসাদ, কাটরা মসজিদ, জাহানকোষা, মোতিঝিল দেখতে পারেন। সময় থাকলে কাঠগোলা প্যালেসও ঘুরে নেওয়া যেতে পারে।

কাটরা মসজিদ।

কাটরা মসজিদ। ছবি:সংগৃহীত।

বহরমপুর থেকে সড়কপথে শিলিগুড়ির দূরত্ব মোটামুটি ৩৮০ কিলোমিটার। যেতে ৯-১০ ঘণ্টা লাগবে। তার পরেও যেতে হবে ডুয়ার্সের দিকে। লালবাগ-মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখে পরের দিন জিরিয়ে বা ইচ্ছামতো ঘুরে সফর শুরু করতে পারেন রাতের দিকে। রাত ১০টা নাগাদ যাত্রা শুরু করলে ৭টার মধ্যেই পৌঁছে যাবেন ফুলবাড়ি। সেখান থেকে বিন্নাগুড়ি, লাটাগুড়ি, বাতাবাড়ি হয়ে মূর্তি।

মূর্তি নদী ডুয়ার্সের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। জলদাপাড়া, গরুমারা অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এই নদীকে ঘিরে পর্যটনের প্রসার হয়েছে উত্তরবঙ্গে। মূর্তি নদীর ধারে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি একাধিক রিসর্ট। গাছগাছালি ঘেরা স্থানটি মনে করিয়ে দিতে পারে ছোটবেলায় আঁকা নদী-পাহাড়ের সেই ছবিগুলিকে।

মূর্তি নদীর ধারে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

মূর্তি নদীর ধারে বসেই কাটিয়ে দেওয়া যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ছবি:সংগৃহীত।

মূর্তিতে থাকার সুবিধা হল এখান থেকে যেমন ঝালং, বিন্দুর দিকে যেতে পারবেন তেমনই বাতাবাড়ি হয়ে লাটাগুড়ির দিকেও যাওয়া যায়। গরুমারা বা চাপড়ামারির অরণ্যে সাফারি করাও সহজ এখানে থাকলে। মূর্তি পৌঁছে সফর সাজান একেবারে নিজের মতো করে। পশ্চিমবঙ্গ বনোন্নয়ন নিগমের বাংলোয় থাকলে জঙ্গলের বাফার জোনে সাফারির বন্দোবস্ত করে দিতে পারে তারা নিজেরাই। তবে অরণ্যের ভিতরে যেতে হলে লাটাগুড়িতে বন দফতরের অফিস থেকে সাফারির জন্য জিপ বুকিং করতে হবে। গরুমারায় অনলাইনেও সাফারির টিকিট কাটা যাচ্ছে। গরুমারার যাত্রাপ্রসাদ, চাপড়ামারি ও রামসাই-মেদলা নজরমিনারগুলিতে বন দফতরের গাড়িতেই যেতে পারেন।

লাটাগুড়ি, চাপরামারি, গরুমারার অরণ্যে সাফারিও করতে পারেন।

লাটাগুড়ি, চাপরামারি, গরুমারার অরণ্যে সাফারিও করতে পারেন। ছবি:সংগৃহীত।

একটি দিন ঘুরে নিন ঝালং-বিন্দু। ঝালংয়ের দিকে যেতে হলে খুনিয়া মো়ড়ে এসে খুনিয়া-ঝালং রোড ধরতে হবে। এই পথে চাপড়ামারি অভয়ারণ্যের শোভা দেখা যায়। ঝালংয়ের প্রধান আকর্ষণ হল জলঢাকা নদী। বড় বড় বোল্ডারের মধ্যে দিয়ে অবিশ্রান্ত ভাবে বয়ে চলা নদী, গাছগাছালি, পাখির ডাকই ঝালংয়ের মূল আকর্ষণ। ঝালং থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিন্দু হল ভারত-ভুটান সীমান্তে ভারতের শেষগ্রাম। অনুমতি জোগাড় করতে পারলে ঝালং-বিন্দু সফরে ঘুরে নিতে পারেন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। বিন্দুতে জলঢাকা নদীর উপরে তৈরি হয়েছে বাঁধ। এই স্থলটিও দর্শনীয়। কমলালেবুর মরসুমে গেলে, প্রচুর কমলালেবুর গাছও মেলে এই পথে। এই স্থল আসলে প্রকৃতিকে নিজের মতো উপভোগের জন্য। চাইলে মূর্তি থেকে সম্পূর্ণ সফরটি না করে ঝালঙের কাছে জলঢাকার পাশে পশ্চিমবঙ্গ বনোন্নয়ন নিগমের ক্যাম্পেও থাকতে পারেন। এখানেও রাত্রিবাসের অভিজ্ঞতা হতে পারে অনন্য।পাহ

পাহাড়, জলঢাকা নদী, অরণ্যের সৌন্দর্য মিলবে ঝালঙে।

পাহাড়, জলঢাকা নদী, অরণ্যের সৌন্দর্য মিলবে ঝালঙে। ছবি:শাটারস্টক।

দিন ২-৩ মূর্তি, ঝালং এবং জঙ্গল সাফারির জন্য রাখুন। তার পরে ফেরার পথ ধরুন। ফেরার পথে একটি রাত থেকে যেতে পারেন মালদহে। এখান থেকে জাতীয় সড়ক ধরে ফরাক্কার মহদীপুরের পথে এগোলে পৌঁছে যাবেন গৌড়ের অতীত রাজধানীর ধ্বংসাবশেষে। গৌড়ে দর্শনার্থীদের প্রথম দ্রষ্টব্য পিয়াসবাড়ি। বাড়ি আজ ধ্বংস হয়ে গেলেও ৩৩ একরের পিয়াসবাড়ি দিঘিটি দেখার মতো। পিয়াসবাড়ি থেকে ডাইনে গেলে রামকেলি। বৃন্দাবন যাওয়ার পথে শ্রীচৈতন্য এসেছিলেন এখানে। তমালতলের ছোট মন্দিরে পাথরের উপর তাঁর পদচিহ্ন রয়েছে। রামকেলিকে ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’ও বলা হয়।

রামকেলি থেকে আধ কিমি দক্ষিণে পাঁচশো বছরের পুরনো বারোদুয়ারি মসজিদ। এই মসজিদের গম্বুজের সোনালি চিকন কাজের জন্য একে সোনা মসজিদ আর আকারে বড় বলে বড়সোনা মসজিদও বলা হয়। কাছেই উত্তরমুখী দাখিল দরওয়াজা। এককালের প্রাসাদের মূল প্রবেশপথ। এখান থেকে ১ কিলোমিটার দূরে ফিরোজ মিনার। এখান থেকে আধ কিমি যেতে কদম রসুল মসজিদ। বাঁয়ে নেক বিবির সমাধি। কাছেই বিরাট গম্বুজওয়ালা চিকা মসজিদ।

রাতভর লম্বা সফরের পরে মালদহে বিশ্রামের জন্যও সময় চাই। তাই দ্রষ্টব্যের মধ্যে যে কোনও একটি দিক বেছে নিয়ে, সেগুলি দেখে নেওয়া ভাল। মালদহ থেকে কলকাতায় ফেরার পথ ধরুন।

কী ভাবে যাবেন?

১২ নম্বর এবং ২৭ এবং ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক পড়বে এই পথে। কলকাতা থেকে মূর্তির দূরত্ব ৬৫১ কিলোমিটার। একটানা গেলে ১৫ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।

কোথায় থাকবেন?

বহরমপুরে থাকার জন্য একাধিক হোটেল পাওয়া যাবে। মালদহেও জাতীয় সড়কের পাশে এবং শহরের ভিতরে বিভিন্ন মানের হোটেল মিলবে। মূর্তি, ঝালঙে বেসরকারি রিসর্টের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বনোন্নয়ন নিগমের রিসর্ট, জলঢাকার পাশে রিভার টেন্ট রয়েছে।

সংক্ষেপে
  • লক্ষ্মীপুজো যে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই হয় তা নয়, দেশের নানা প্রান্তে হয়, তবে পুজোর আচার ভিন্ন। মহারাষ্ট্রে তা লক্ষ্মী পূজন, গুজরাতে আবার চোপড়া পূজন। ওড়িশায় তা-ই গজলক্ষ্মীর আরাধনা। কোন রাজ্যে কেমন ভাবে লক্ষ্মী পুজো হয়?
  • উত্তমকুমার নিষ্ঠাভরে বাড়ির লক্ষ্মীপুজো করতেন। তাই এই পুজোর নামই হয়ে গিয়েছিল ‘উত্তমকুমারের বাড়ির পুজো’। এখনও এই পুজো এ ভাবেই পরিচিত। পুজোর ঐতিহ্য এবং রীতি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে আড্ডা দিলেন উত্তম কুমারের ভাইঝি ও নাতনি।
  • সময় করে বসে পুজোর জন্য আলপনা দেওয়া এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শহরে তো বটেই, মফস্‌সলেও। ইদানীং সমাজমাধ্যমের রিলে হাতপাখা থেকে শুরু করে পুরনো শাড়ি, চায়ের টেবিল থেকে ডায়েরির মলাট কিংবা বসার ঘরের মেঝে, সর্বত্র আলপনা দিচ্ছেন হুজুগে মানুষজন।
Road Trip

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy