চোখের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে ভারতে এসেছিলেন মার্কিন নাগরিক। এ দেশে স্বাস্থ্য পরিষেবার অভিজ্ঞতায় রীতিমতো অবাক তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের চিকিৎসা পরিষেবার কতখানি ফারাক তা-ও প্রকাশ করেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়োয় তাঁর চোখের অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন তিনি। স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া চোখের চিকিৎসা কেমন ভাবে হল সেটাই জানিয়েছেন বিদেশিনি। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
‘বিমা ছাড়া একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা’ শিরোনামে ভিডিয়োটি পোস্ট করে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন বিদেশিনি। যদিও প্রাথমিক ভাবে ভারতে চিকিৎসা করানোর জন্য এখানে আসেননি বলে জানিয়েছেন মার্কিন তরুণী। বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে বন্ধুর সঙ্গে যাওয়ার পর তাঁর চোখের অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, যা পরে তাঁকে রীতিমতো অবাক করে দেয়।
ভিডিয়োয় মার্কিন তরুণী জানান, তাঁর এক চোখের পাওয়ার ছিল মাইনাস ৬.৭৫ এবং অন্য চোখের মাইনাস ৬.৫। দৃষ্টিশক্তির এই সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচার করানোর ক্ষেত্রে কিছুটা দোটানায় ছিলেন তিনি। চিকিৎসা করানোর কথা ভাবতেও দ্বিধা ছিল তাঁর। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকার স্বাস্থ্য পরিষেবার তুলনায় ভারতে স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেক ভাল। আর আমার চোখের অস্ত্রোপচার করানোর কোনও ইচ্ছাই ছিল না। আসলে আমি ভেবেছিলাম, এটা সম্ভবই নয়।’’
তাঁর এক বন্ধু হাসপাতালে যাওয়ার পর কৌতূহলবশত তিনিও নিজের চোখ পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেন। ওই মার্কিন মহিলার দাবি, হাসপাতালে তাঁর প্রাথমিক চক্ষুপরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ইতিপূর্বে কখনও হয়নি তাঁর। বিদেশিনির কথায়, ‘‘আমি বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা করিয়েছি, যা আমেরিকায় সম্ভব নয়।’’ মার্কিন তরুণী আরও জানান, বর্তমানে তাঁর কোনও স্বাস্থ্যবিমা নেই। তা সত্ত্বেও ভারতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা করানোর সুযোগ পেয়েছেন তিনি। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্রোপচারের দিন ঠিক হয়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটিও ছিল অত্যন্ত মসৃণ। চিকিৎসকদের ব্যবহার ছিল অসাধারণ। অস্ত্রোপচারের খরচের মধ্যেই গত এক মাসের পরবর্তী পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছে। তিনি দুই চোখেই সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন বলে জানান তরুণী।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই বহু নেটাগরিক তরুণীর দাবিকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন। অনেকেই ভারতের চিকিৎসা পরিষেবার তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি, ভারতীয় চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিষেবারও ভূয়সী প্রশংসা করেন বেশ কয়েক জন নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী। এক নেটাগরিকের মন্তব্য, ‘‘আমি ৫০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছি এবং আমি দ্ব্যর্থহীন ভাবে বলতে পারি যে বসবাসের জন্য ভারত অন্যতম সেরা দেশ।”