নব্য তরুণ প্রজন্মের এক চাকরিপ্রার্থীর সাহসী অনুরোধ! চিন্তায় পড়ে গেলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগল, আসলে উৎপাদনশীলতা বলতে কী বোঝায়। কিন্তু কী অনুরোধ করেছিলেন ওই চাকরিপ্রার্থী? নয়ডার একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার কাছে নব্য তরুণ প্রজন্মের এক চাকরিপ্রার্থী দিনের বেলা কাজের সময় ৩০ মিনিটের জন্য ঘুমোনোর আবদার জানিয়েছিলেন। সে কথাই পেশাদারদের সমাজমাধ্যমে লিঙ্কডইনে জানিয়েছেন ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠা। প্রশ্ন তুলেছেন, কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কি ডেস্কে কাটানো সময়ের ভিত্তিতে মাপা উচিত, না কি কাজের প্রকৃত ফলাফলের ভিত্তিতে?
ওই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইওর নাম নিতিন বর্মা। লিঙ্কডইনে অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, ইন্টারভিউ চলাকালীন ওই প্রার্থী তাঁকে বলেছিলেন, “স্যার, আমার প্রতি দিন বিকেলে ৩০ মিনিট ঘুমোনোর প্রয়োজন হবে। এতে আমার কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ে।” কর্মক্ষেত্রে অদ্ভুত মনে হওয়া এই দাবিটি শেষ পর্যন্ত নিতিনকে কর্মীদের কাজের ধরন ও ফলাফল পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজের ধারণাগুলি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
নিতিন লিখেছেন, ওই তরুণ প্রার্থী কোনও রকম জড়তা বা কৌতুক হিসাবে অনুরোধটি করেননি। বরং বেতন বা চাকরির অন্যান্য প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনার সময় মানুষ যেমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে, তিনিও ঠিক সে ভাবেই বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। নিতিন তখন ওই প্রার্থীকে জানান যে, তিনি যখন চাকরিতে ঢুকেছিলেন, তখন এই কথা বললে সেখানেই ইন্টারভিউ বন্ধ হয়ে যেত। তবে প্রার্থীর অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে তিনি ওই প্রার্থীকে জানান, কাজ ঠিকঠাক সম্পন্ন হলে এবং প্রত্যাশা পূরণ হলে দিনের কোন সময় ওই প্রার্থী ঘুমোবেন, তা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। নিতিন জানান, প্রার্থী যদি ভাল কাজ করেন, তা হলে তিনি কত ক্ষণ কাজ করছেন, তা নিয়ে মাথা ঘামানো হবে না। কিন্তু কাজের মান যদি খারাপ হয়, তবে ঘুমের কথা ভুলে যেতে হবে।
আরও পড়ুন:
নিতিন জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ওই চাকরিপ্রার্থীর অনুরোধ তাঁকে বিষয়টি ভিন্ন ভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়। প্রার্থীর আত্মবিশ্বাসকে তিনি কোনও বিশেষ সুবিধা বা অধিকার দাবি করার মানসিকতা হিসাবে দেখেননি। বরং এমন একটি গুণ হিসাবে দেখেছেন, যেখানে ওই প্রার্থী নিজের কাজ সেরা করার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন।
নিতিন এ-ও জানিয়েছেন যে তিনি প্রার্থীর সততাকে সম্মান করেন, কারণ অধিকাংশ প্রার্থীই ইন্টারভিউয়ের সময় নিজেদের এমন ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন যা নিয়োগকর্তারা শুনতে পছন্দ করেন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ঘুমোতে চেয়ে ওই প্রার্থী তেমনটা করেননি। ঘটনাটি তরুণ কর্মীদের কর্মক্ষেত্র সংক্রান্ত প্রত্যাশায় যে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে, তা নিয়েও তাঁকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে জানিয়েছেন নিতিন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কর্মক্ষেত্রে ভাল কাজ বলতে এত দিন বোঝাত এক কর্মী কত ঘণ্টা অফিসে থাকছেন। তবে বর্তমানে তরুণ পেশাদাররা কাজের ফলাফল এবং নিজস্ব ছন্দে কাজ করার উপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে নিতিন এ-ও স্পষ্ট করেছেন যে নব্য তরুণ প্রজন্মের কর্মীদের প্রতিটি দাবিই যে যৌক্তিক, তা তিনি মনে করেন না। তবে এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাঁর মনে হয়েছিল, প্রার্থীর অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান না করে বিবেচনা করে দেখা উচিত।
আরও পড়ুন:
লিঙ্কডইন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই নিতিনের পোস্টটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সহমত পোষণ করেছেন যে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বিচার করা উচিত কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে, কেবল ডেস্কে কাটানো সময়ের উপর ভিত্তি করে নয়। এক জন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘‘কাজের ফলাফল এত দিন নির্ধারণ করা হত কাজের সময়ের হিসাবে। কিন্তু নব্য তরুণ প্রজন্মের কর্মীরা সেই ছক ভেঙে দিচ্ছেন দেখে ভাল লাগছে।’’