মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিল প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফ্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় অর্থ বিনিয়োগের পাশাপাশি খরচ কমানোর লক্ষ্যে প্রায় ৬০,০০০ কর্মীকে ছেঁটে ফেলতে চায় মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা। সেই খবর ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। এর মাঝেই ভাইরাল হয়েছে এক রেডিট পোস্ট। সেই পোস্টে তরুণ নিজেকে মাইক্রোসফ্টের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলে দাবি করেছেন। জানিয়েছেন, সংস্থার তরফে তাঁকে প্রায় ১১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কর্মী ছাটাইয়ের আশঙ্কার মুহূর্তে টাকাটি গ্রহণ করে চাকরি ছেড়ে দেবেন না সংস্থাতেই থেকে যাবেন তা নিয়ে সংশয়ে তরুণ। নেটাগরিকদের কাছে পরামর্শ চেয়ে পোস্ট করেছেন তিনি। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল পোস্টে তরুণ দাবি করেছেন, তিনি মাইক্রেসফ্টের হায়দ্রাবাদ অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। বয়স ২৩। ২৬ অক্টোবর সংস্থার তরফ থেকে স্বেচ্ছাবসরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সেই মাফিক তরুণকে সংস্থা থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। তরুণের দাবি, সংস্থা থেকে তরুণকে পদত্যাগ করতে তিন মাসের বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। এখন তরুণের কী করা উচিত, সেই বিষয়ে নেটাগরিকদের মতামত চেয়েছেন তরুণ।
আরও পড়ুন:
পোস্টটি ইতিমধ্যে প্রচুর নেটাগরিকের নজর কেড়েছে। জমা পড়েছে অসংখ্যা প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্য। পোস্টটি ঘিরে দ্বিধাবিভক্ত নেটপা়ড়া। অনেকেই তরুণকে টাকা নিয়ে চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তেমনই, একদল নেটাগরিক তরুণকে পেশাজীবনের শুরুতেই এ হেন কাজ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘‘চাকরি আসবে যাবে, টাকা পাচ্ছেন যখন নিয়ে নিন।’’ অপর এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘‘ভুলেও এই ফাঁদে পা দেবেন না। নতুন চাকরি না পেলে ১১ লক্ষ টাকা দিয়ে কিছুই হবে না।’’
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছে মাইক্রোসফ্ট। এই প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিপূরণ, সংস্থার শেয়ারের মালিকানা ধরে রাখার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে চাকরি কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে স্বেচ্ছাবসরের প্রস্তাব যাঁরা ফিরিয়ে দেবেন সেই সমস্ত কর্মীদের চাকরি আদৌ সুরক্ষিত থাকবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংস্থার কর্মীমহলে।