ছত্তীসগঢ়ের বিভিন্ন অংশে আকাশ ঢাকল রক্তবর্ণ মেঘে। দেখে মনে হল, কেউ যেন আকাশ জুড়ে লাল রঙের গালিচা পেতে দিয়েছে! লাল আকাশ ঘিরে ছত্তীসগঢ়ের বিভিন্ন অংশের বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু হয় প্রবল জল্পনা। দন্তেওয়াড়া, কিরন্দুল-সহ বিভিন্ন জায়গার মানুষ লাল আকাশের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। একই সঙ্গে, আকাশের রং হঠাৎ কেন লাল হয়ে যাচ্ছে, তা নিয়েও নানা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। যদিও সেই সমস্ত ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
তথ্য অনুসারে, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব স্থলভাগে আছড়ে পড়ার ঠিক আগেই ছত্তীসগঢ়ের আকাশে এমন লাল আভা ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। সেই কারণে প্রাথমিক ভাবে অনেকের ধারণা হয়, অর্ণবের জন্যই আকাশ এমন রক্তবর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের সঙ্গে ছত্তীসগঢ়ের লাল আকাশের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। বিজ্ঞান বলছে, বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থান, মেঘের আচ্ছাদন, বায়ুবাহিত ধূলিকণা এবং সূর্যের অবস্থান — এ সকল বিভিন্ন কারণ আকাশের রং প্রভাবিত করতে পারে।
আরও পড়ুন:
বায়ুমণ্ডলের কণাগুলিতে সূর্যের আলো পড়ার পর কী ভাবে তা বিচ্ছুরিত হচ্ছে, সেটির উপর নির্ভর করে আকাশের রং। সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ অংশ জুড়ে সূর্যালোক ছড়িয়ে পড়ে। সেই কারণে আকাশে সেই সময় লালচে বা কমলা আভা দেখতে পাওয়া যায়। তবে, বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত ধূলিকণা, ধোঁয়া এবং জলের ফোঁটার উপস্থিতির উপরেও নির্ভর করে আকাশের রং। ঝোড়ো আবহওয়া ও মেঘের অবস্থান, বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, প্রভৃতির উপরেও আকাশের রং নাটকীয় ভাবে লাল বা কমলা হতে দেখা যায়। তবে, ছত্তীসগঢ়ের বায়ুমণ্ডলে অর্ণবের কারণে সেই ধরনের কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল বলেই যে আকাশ লাল হয়েছে, তেমনটা হলফ করে বলা যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সেই সময় সেখানকার আকাশের বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা জরুরি।
আরও পড়ুন:
‘পঙ্কজ১০১ভরদ্বাজ’ নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, আকাশ ঢাকা পড়েছে রক্তবর্ণ মেঘের চাদরে। প্রচুর নেটাগরিকের নজর কেড়েছে ভিডিয়োটি। প্রতিক্রিয়া এবং মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। অধিকাংশ নেটাগরিক ‘মন্তব্য-বাক্সে’ অর্ণবকেই আকাশের লাল রঙের জন্য দায়ী করেছেন।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের দাপটে অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত্যু হয়েছে অন্তত পাঁচ জনের। মৃত্যুর খবর এসেছে বিশাখাপত্তনম, আনারাপল্লি, কাকীনাডা, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী থেকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকীনাডার নিকটবর্তী পুদুচেরীর ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। এ ছাড়া ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাতেও চলছে ঝড়ের তাণ্ডব। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার পরেই শক্তিক্ষয় হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের। বুধবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল সেটি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সাইক্লোন অর্ণবের যে অবশিষ্টাংশ নিম্নচাপ হিসেবে ছত্তীসগঢ় এবং ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল, তা উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে এগোতে আরও শক্তি হারিয়েছে। বর্তমানে তা সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।