আইসক্রিমের ঠেলা নিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন বিক্রেতা। এসে ছিনতাই করে নিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা। আইসক্রিম তো নিয়ে গেলই, সঙ্গে ছিনিয়ে নিয়ে গেল টাকাপয়সাও। কান্নায় ভেঙে পড়লেন বিক্রেতা যুবক। তা দেখে অসহায় মানুষটির দিকে সাহায্যের হাত বা়ড়িয়ে দিয়ে নেটপাড়ার মন জয় করলেন এক পথচারী। ঘটনাটি ঘটেছে অসমে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, শারীরিক যন্ত্রণার কারণে বিশ্রাম নিচ্ছেন এক আইসক্রিম বিক্রেতা। সেই সুযোগে তাঁর সমস্ত পণ্য ও উপার্জিত অর্থ চুরি হয়ে যায়। রাস্তার ধারে কান্নায় ভেঙে পড়েন যুবক বিক্রেতা। পরিবারকে কী খাওয়াবেন, তা নিয়ে চিন্তায় প়ড়ে যান। এমন সময় তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় বিষয়স্রষ্টা (কন্টেন্ট ক্রিয়েটর) পঙ্কজ গগৈ। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি যখন ঘটে তার আগে ওই বিক্রেতা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করছিলেন। ঠেলাগাড়ি নিয়ে যেতে পারছিলেন না তিনি। বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে কিছুক্ষণ শুয়ে পড়েন। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন যে চোরেরা তাঁর সব আইসক্রিম এবং নগদ চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়েন আইসক্রিম বিক্রেতা। সেই সময়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন পঙ্কজ। আইসক্রিম বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে তৎক্ষণাৎ তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রথমে ওই বিক্রেতাকে খাবার খাওয়ান পঙ্কজ। এর পর তিনি তাঁকে চাল, দুধ এবং বিস্কুটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে দেন, যাতে বিক্রেতা তাঁর পরিবারের জন্য খাবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন পঙ্কজ নিজেই। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন আইসক্রিম বিক্রেতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার তরুণ বিষয়স্রষ্টার প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন অনেকে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর মন্তব্য করেছেন, ‘‘মানুষ কেন বোঝে না। এই গরমে ১০ টাকা আয় করতে কতটা পরিশ্রম করতে হয়, তা কেবল ওই বিক্রেতাই জানেন। বিষয়স্রষ্টাকে অনেক ভালবাসা জানাই সাহায্যের হাত বা়ড়িয়ে দেওয়ার জন্য।’’ অন্য এক জন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘কিছু মানুষ বোঝেন না যে তাঁদের কর্মকাণ্ড অন্যদের কতটা কষ্ট দেয়। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য এঁরা সারাদিন প্রখর রোদে কাজ করেন। দয়া করে তাঁদের কঠোর পরিশ্রমকে বৃথা যেতে দেবেন না। সহানুভূতিশীল হোন।’’