চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই নির্দেশমতো এ বার ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল রাজ্যে। ওই দলের নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। এ ছাড়াও দলে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধি, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে ‘সিট’ গঠন করেছে। রাজ্য সরকার চেয়েছিল ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য স্পেশ্যাল কমিশন গঠন করতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চেয়েছিলেন, হাই কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বেই তদন্ত কমিটি গঠিত হোক। সেই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের কাছে চিঠি পাঠান। প্রধান বিচারপতি তাঁর প্রেক্ষিতে চিঠিতে জানান, কোনও বর্তমান বিচারপতি নয়, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বেই তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
সেই নির্দেশের পরই নবান্নের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিটি গঠনের কথা জানানো হল। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হল, কী ঘটেছিল সে দিন, সেই কারণ খুঁজে বার করা। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখতে বলা হয়েছে এই নতুন কমিটিকে। ঠিক কোন সময়ে, কোন জায়গায় এবং কী ভাবে প্রথম ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল তা নির্ধারণ করতে হবে তাদের। ওই মণ্ডপে যত লোক ধরার কথা, ওই সময় তার থেকে বেশি ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে সিট। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়া’র ঘোষণা, না কি বৃষ্টি কারণ ছিল, তা-ও বিবেচ্য বিষয়। এ ছাড়াও, ওই মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ছিল, কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ও খতিয়ে দেখবে সিট। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যত কী কী করা উচিত, তা-ও সুপারিশ করবে তারা। তিন মাসের মধ্যে সিট-কে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
শুভেন্দু বা রাজ্য সরকার চাইলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে মঙ্গলবারই হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, কোনও বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করা যাবে না। রাজ্য সরকারের আবেদন ফিরিয়ে, অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতিকে দিয়ে এই তদন্ত করানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে, সমকালীন কোনও ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তে কোনও কর্মরত বিচারপতি যোগ দিতে পারবেন না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় সপ্তমীর সন্ধ্যায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু।
- বিপর্যয়ের পর প্রথমে পুজো কমিটির দু’জন কর্তা-সহ সাত জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে গ্রেফতার হন পুজোমণ্ডপের দুই ঘোষকও।
-
অন্য রোগীরাও কর্পোরেট হাসপাতালে যেতে চাইলে ‘প্রোটোকল’ কী হবে? চোরবাগান প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলল জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন
-
‘মাইকের ঘোষণা শোনা যায়নি’, দাবি চোরবাগানে আহতের, কোন পথে মৃত্যুমিছিলের তদন্ত
-
পুজোয় কলকাতায় থাকার কথাই ছিল না, এই প্রথম চোরবাগানের মণ্ডপে যান নিহত ঘোষ দম্পতি
-
মূল ঘোষক ছিলেন সেন্টু, কিন্তু ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ কে ঘোষণা করেন, কার নির্দেশে? কালিয়ার মুখোমুখি বসিয়ে হবে জেরা
-
‘ঘোষক’ গ্রেফতার, থ্রিডি স্ক্যান করল ফরেনসিক! চোরবাগানে মণ্ডপ ঘুরে রাজ্যের গড়া ‘সিট’ জানাল, নজরে পুলিশ-পুরসভাও