Advertisement
E-Paper

হরমুজ়ের জাহাজে হামলা করা ভুল, স্বীকার করে নিয়েছে ইরান? গোপনে ট্রাম্প প্রশাসনকে বার্তা তেহরানের, দাবি মার্কিন রিপোর্টে

গত কয়েক দিন ধরেই হরমুজ়ের উপর জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা এবং ইরানের সংঘর্ষ জারি। ট্রাম্প সংঘর্ষবিরতিতেও ইতি টেনে দিয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৪
(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পণ্যবাহী জাহাজে হামলা ‘ভুল’ ছিল বলে গোপনে মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছে ইরান, দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ়ের। ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আমেরিকাকে সমঝোতার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছে তারা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিনিয়র আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওই রিপোর্টে দাবি, ইরানের আধিকারিকেরা গোপনে যোগাযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতাদের সঙ্গে। সেখানেই হামলাকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে দাবি। তবে আমেরিকা তাদের কাছ থেকে প্রকাশ্য বিবৃতি চায়।

গত কয়েক দিন ধরেই হরমুজ়ের উপর জাহাজে হামলার একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকা এবং ইরানের সংঘর্ষ জারি। ট্রাম্প সংঘর্ষবিরতিতেও ইতি টেনে দিয়েছেন। অভিযোগ, সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে ইরান বার বার হরমুজ় প্রণালীতে হামলা চালাচ্ছে। তার জবাবে মার্কিন বাহিনীও ইরানকে নিশানা করেছে একাধিক বার। রবিবার ভোরে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে গোলাবর্ষণ করে ইরান। আমেরিকা তার জবাবে বাহরিনের ঘাঁটি থেকে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরানের দিকে। এর মধ্যেই ইরানের ভুলস্বীকারের তত্ত্ব প্রকাশ্যে এল।

রিপোর্টে দাবি, ইরানের আধিকারিকেরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ় প্রণালীর জাহাজে হামলা চালানো উচিত হয়নি। ভুল হয়েছে। তবে এই ভুলের দায় চাপানো হয়েছে দেশের কিছু কট্টরপন্থী বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী উপর। দাবি, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান সমঝোতার আলোচনা ভেস্তে দিতে চান যাঁরা, তাঁরাই এই হামলা চালিয়েছেন পরিকল্পিত ভাবে। ইরানি প্রতিনিধিদের দাবি, সরকারের নির্দেশে এই হামলা হয়নি। তবে প্রকাশ্যে এমন কোনও বিবৃতিও দেয়নি তেহরান। বরং রবিবারের ঘটনার পর আমেরিকাকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে সে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী।

হরমুজ় সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানে গিয়েছিলেন শনিবার। এখনও কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসেনি সেখান থেকে। রবিবার ট্রাম্পের নির্দেশেই মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা চালায়।

ইরানের তরফে গোপন বার্তায় হরমুজ়ে হামলার নেপথ্যে কট্টরপন্থী বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর ভূমিকার যে দাবি করা হয়েছে, এখনই তা বিশ্বাস করতে চায় না ওয়াশিংটন। তারা মনে করে, সমঝোতা অনুযায়ী ইরানকে হরমুজ়ের দক্ষিণ দিকের জলপথ খুলে দিতে হয়েছিল। সেখান দিয়ে পণ্য পরিবহণের বিপুল গতি দেখে তারা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। তাই পণ্যবাহী জাহাজগুলিতে হামলা চালিয়ে গতিপথে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছে। সংঘর্ষবিরতিতে ইতি টানলেও ইরানের সঙ্গে আলোচনার রাস্তা এখনও খোলা রেখেছেন ট্রাম্প।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Donald Trump US Iran Conflict US Iran Peace Deal Tehran

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy