সাধারণ মানুষ রাহুকে ভীতির চোখে দেখেন। সব সময় চিন্তাভাবনা থাকে অশুভ গ্রহের প্রভাব বা রাহুর অশুভ প্রভাব যেন গৃহে কোনও ভাবে না পড়ে। তার জন্য নানা রকম প্রতিকার বা বিভিন্ন সচেতনতা অবলম্বন করে থাকি আমরা। ব্যক্তিগত জন্মপত্রিকায় রাহু অশুভ থাকলে তার প্রতিকার আলাদা। কিন্তু ঘরে বিভিন্ন কাজ করার ফলেও আমাদের উপর রাহুর কুপ্রভাব পড়ে। সে ক্ষেত্রে আলাদা প্রতিকার অবলম্বন করার নিদান দেয় শাস্ত্র। পরিবারের সদস্যদের উপর বা বাড়ির উপর রাহুর অশুভ প্রভাব থেকে নিষ্কৃতি পেতে কোন কাজগুলি করা উচিত এবং কোন কাজগুলি করা অনুচিত, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
- গ্রহের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্রের যেমন সম্পর্ক, তেমনই সম্পর্ক বাস্তুশাস্ত্রেরও। বাস্তুশাস্ত্রে রাহুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাস্তুশাস্ত্র মতে বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হল রাহুর স্থান।
- রাহুর স্থানে, অর্থাৎ গৃহের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সব সময় ভারী নির্মাণ করা উচিত। প্রসাধন, সিঁড়ি ইত্যাদি নির্মাণের পক্ষে উপযুক্ত রাহুর স্থান। গৃহের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে স্টোররুম, অপ্রয়োজনীয় ভাঙা জিনিস রাখা উচিত।
- বাস্তুমতে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে গৃহের সম্প্রসারণ উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
- গৃহের দক্ষিণ-পশ্চিম (রাহুর) দিকে সদর দরজা করা শুভ নয়। রাহুর স্থানে সদর দ্বার বাড়ির সদস্যদের অলসতা, দুশ্চিন্তা, আর্থিক সমস্যা এবং মুখ, কান, ঠোঁট, অন্ত্র, গুহ্যদেশের বিভিন্ন রোগ এবং কর্কট রোগের মতো জটিল রোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি করে বলে মনে করা হয়। বিশেষত গৃহের প্রবীণ পুরুষ সদস্যদের।
- গৃহের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের দেয়ালে কোনও চিড় বা ফাটল হলে দেখামাত্রই তা বন্ধ বা মেরামত করা উচিত।
- বাড়ির কোনও স্থানে, বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে নোংরা জল জমতে দেওয়া উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
- বাড়িতে ঝুল জমতে দেওয়া উচিত না। দেখামাত্রই পরিষ্কার করা উচিত। ঝুল রাহুর অশুভ প্রভাব বৃদ্ধি করে।
- ভাঙা বা অচল বৈদ্যুতিন বস্তু বাড়িতে রাখলে তা রাহুর অশুভ প্রভাব বৃদ্ধি করে। এই সমস্ত জিনিস যত শীঘ্র সম্ভব বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত।