ট্রেনে টিকিট পরীক্ষক বা টিটিই সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। হম্বিতম্বি করছিলেন যাত্রীদের উপর। পরিচয়পত্র চাইতেই চাপে পড়লেন। জারিজুরি শেষ হল তরুণীর। মহারাষ্ট্র থেকে বিহারগামী একটি ট্রেনে তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। নিজেকে টিকিট পরীক্ষক বা ‘ট্রাভেলিং টিকিট এগ্জ়ামিনার (টিটিই)’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক তরুণী যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন। এক যাত্রী তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায়, ওই তরুণী আদতে টিটিই-ই নন। টিটিই সেজে যাত্রীদের থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন তিনি।
অভিযোগ, মহারাষ্ট্র থেকে বিহারগামী ওই ট্রেনে রাত ২টো নাগাদ যাত্রীদের ঘুম থেকে ডেকে টিকিট পরীক্ষা করতে শুরু করেন ওই তরুণী। তবে একটি সাদা কাগজে টিকিট লিখে দেওয়ার চেষ্টা করলে যাত্রীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। ঘটনাটি এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেন ‘নিতু’ নামের এক ব্যবহারকারী। তরুণীর ছবি-সহ ট্রেনের ভেতর ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বিবরণ তিনি ওই পোস্টে তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন:
নিতু লিখেছেন, “মহারাষ্ট্র থেকে বিহারগামী একটি ট্রেনে রাত ২টো নাগাদ এক নারী হঠাৎ যাত্রীদের ঘুম থেকে ডেকে টিকিট পরীক্ষা করতে শুরু করেন। তিনি নিজেকে টিটিই পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের কাছে টিকিট দেখতে চান।” ওই তরুণী এমন এক যাত্রীর কাছে যান যাঁর কাছে কোনও টিকিট ছিল না। অন্য আর এক যাত্রীর কাছেও যান তিনি। তবে ওই যাত্রী টিকিট দেখাতে ইতস্তত বোধ করছিলেন। এর পর যা ঘটে, তা পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তোলে।
নিতু লিখেছেন, “তরুণী সঙ্গে সঙ্গে বলেন যে, ওই যাত্রীর জন্য নতুন টিকিট ইস্যু করতে হবে। এর পর তিনি ব্যাগ থেকে একটি সাদা কাগজ বার করেন এবং যাত্রীর নাম জিজ্ঞাসা করে তাতে কিছু লিখতে শুরু করেন।” অন্য এক জন যাত্রী লক্ষ করেন যে তরুণীর পরনে কোনও টিটিই ইউনিফর্ম নেই। তিনি তখন ওই তরুণীকে তাঁর পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু তরুণী নাকি পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকার করেন এবং জানান, তিনি কেবল কোনও কর্মকর্তার কাছেই তাঁর পরিচয়পত্র দেখাবেন। উত্তরে যাত্রীর সন্দেহ দূর হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, ইউনিফর্ম বা পরিচয়পত্র ছাড়া এক টিকিট পরীক্ষক কী ভাবে গভীর রাতে টিকিট পরীক্ষা করতে পারেন। নিতু লিখেছেন, “প্রশ্ন বাড়তে থাকলে ওই তরুণী ঘাবড়ে যান এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।” যাত্রী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে ওই তরুণী উল্টে তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, “পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে ওই তরুণী ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে পড়েন এবং পরে মুখে মাস্ক পরে ভিড়ের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যান।”
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই বহু মানুষ নিতুর ওই পোস্ট দেখেছেন। প্রশ্ন উঠছে, কী ভাবে ওই তরুণী রেলকর্মীদের বাধা ছাড়াই যাত্রীদের কাছে গিয়ে টিকিট পরীক্ষা করতে পারলেন। উল্লেখ্য, ওই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষও। রেলওয়ে সেবার অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটির উত্তরে লেখা হয়েছে, “সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হচ্ছে।” তবে ওই তরুণী অন্য কোনও যাত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিলেন কি না, কিংবা কর্মকর্তারা তাঁকে শনাক্ত করতে পেরেছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।