সমুদ্রের নীচে নানাবিধ প্রাণীর বাস। সেই সব জীবের চেহারা দেখে আশ্চর্য হয়ে যায় মনুষ্যকুল। সম্প্রতি তেমনই এক জলজ প্রাণীকে দীর্ঘ সময় ধরে ক্যামেরাবন্দি করতে পেয়েছেন মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমবিএআরআই) গবেষকেরা। সেটি হল, একটি বিরল ব্যারেলআই ফিশ। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, সমুদ্রের প্রায় ১,৯৭০ ফুট গভীরে সম্প্রতি এক স্বচ্ছ মাথার মাছের দেখা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রশান্ত মহাসাগরে দেখা পাওয়া গিয়েছে এটির। ক্যালিফর্নিয়ার মন্টেরে উপকূলের কাছে একটি গবেষণামূলক অভিযানের সময় এই মাছের দেখা পাওয়া যায় বলে খবরে প্রকাশ।
আরও পড়ুন:
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মাছটি লম্বায় প্রায় ৬ ইঞ্চি। চোখের রং সবুজ। মাথাটির আকার খানিকটা লম্বাটে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। সমুদ্রের নীচে এটির সাঁতরে চলার একটি ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, এটির গায়ের রং হালকা বাদামি। স্বচ্ছ মাথায় নীল, হলুদ এবং সবুজ রঙের খেলা। লেজে রুপোলি রঙের ছোঁয়া।
আরও পড়ুন:
গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা প্রায়-সম্পূর্ণ অন্ধকারে টিকে থাকার জন্য কী ভাবে দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে, সে সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা পাওয়া যেতে পারে এই ভিডিয়ো ফুটেজটি থেকে, এমনটাই মনে করছেন গবেষকেরা। এটির জীবনযাপনও পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। জানা গিয়েছে এক আশ্চর্য তথ্যও। এটির নলাকার চোখগুলি স্বচ্ছ মাথার ভিতরে ঘুরতে পারে, যা একে সম্ভাব্য শিকারের খোঁজে উপরের দিকে এবং খাওয়ার সময় সামনের দিকে তাকাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অন্যতম অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী স্টিভেন হ্যাডক জানিয়েছেন, এর আগেও বেশ কয়েক বার তিনি বিশেষ এই প্রজাতিটির দেখা পেয়েছেন। শেষ বার দেখা হয়েছিল নয় বছর আগে। কিন্তু, তখনও এই ধরনের কাজে এত উন্নত ক্যামেরার ব্যবহার শুরু হয়নি। তাঁর কথায়, “এটি এমনই এক আশ্চর্যজনক প্রাণী, যা দেখে মনে হয় কোনও কল্পনাপ্রবণ শিশু এটিকে সৃষ্টি করেছে।” হ্যাডকের ব্যাখ্যা, এই প্রাণীগুলি সমুদ্রের মধ্যবর্তী অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য মাথার উপর দিয়ে চলে যাওয়া ছায়ার মতো সূক্ষ্ম আলোক সঙ্কেতের উপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুন:
‘ডিপসিটাউন১’ নামের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটির ভিডিয়ো ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
হাজার হাজার বার দেখা হয়েছে ভিডিয়োটি। সেটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। বিস্ময়ের সুরে এক জন লিখেছেন, “মনে হচ্ছে, যেন মাথার ভিতর মহাবিশ্ব দেখতে পাচ্ছি!” কারও আবার মনে হয়েছে, যেন ভিন্গ্রহ থেকে এসেছে সামুদ্রিক প্রাণীটি। আর এক নেটাগরিকের মনে পড়েছে, ছোটবেলায় মার্বেল নিয়ে খেলার স্মৃতি। তিনি লিখেছেন, “মার্বেল নিয়ে খেলার সময়ে, তার ভিতরেও এমন রঙের খেলা দেখে অবাক হতাম আমরা।”