Advertisement
E-Paper

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ ‘ধ্বংস’, দাবি আমেরিকার সেনাবাহিনীর, তেহরানের হামলার জবাব! পাল্টা আক্রমণ মার্কিন ঘাঁটিতে

মূলত ওমান উপসাগরে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এ ছাড়াও ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩৭
US forces hit five Iranian tankers, Tehran targets American base in Jordan

ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি মার্কিন বাহিনীর। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের হামলার জবাব দেওয়া শুরু করল আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমেরিকার সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তারা ইরানের অপরিশোধিত তেল বহনকারী পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে! পাঁচটি জাহাজই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি মার্কিন বাহিনীর। যদিও ইরানের তরফে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরান-আমেরিকার হামলা এবং পাল্টা হামলায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। সেন্টকমের দাবি, পর পর দু’দিন তেহরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। যদিও কোনও বারই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি মার্কিন জাহাজের ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ইরানের ‘ব্যর্থ’ হামলার জবাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তাদের অভিযোগ, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তেল চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত! সেই কারণে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

মূলত ওমান উপসাগরে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের দাবি, এম/টি কাভিজ়, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজ়ন এবং এম/টি রিস্কো— ওমান উপসাগরে এই চারটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দরিয়া বলে আরও একটি জাহাজকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা কোনও নাবিকের ক্ষতি চায়নি। সেই কারণে হামলা চালানোর আগে ওই জাহাজগুলিতে থাকা নাবিকদের অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছিল। নাবিকেরা ট্যাঙ্কার ছেড়ে চলে যাওয়ায় জাহাজগুলি আর স্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। হামলার ছবি নিজেদের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছে সেন্টকম।

মার্কিন বাহিনীর অভিযোগ, আইআরজিসি ওই সব তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে কয়েক হাজার কোটি ডলারের ‘গোপন-নেটওয়ার্ক’-এর অংশ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছিল। এর থেকে পাওয়া টাকা আইআরজিসি এবং তার ‘ছায়াসঙ্গী’-দের অর্থায়নে সাহায্য করছে। এই হামলা রোখার ক্ষমতা ইরানের নেই বলেও দাবি সেন্টকমের। উল্লেখ্য, দিন তিনেক আগেও ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। তারা জর্ডনে থাকা এক মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও পরে জর্ডন জানিয়েছে, ইরানি হামলা আটকে দিয়েছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ‘চুপ’ করে থাকবে না। কুয়েত, বাহরিনেও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তেহরান। কুয়েত এবং বাহরিনের বন্দরগুলিতে থাকা তেলবাহী মার্কিন জাহাজগুলির নাবিকদের সতর্ক করেছে আইআরজিসি।

হরমুজ় প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের বিবাদের কেন্দ্রে। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করে এবং সে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করে। তার পর থেকেই সংঘর্ষ চলছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে ধারাবাহিক ভাবে নিশানা করেছে ইরান। একাধিক বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে হরমুজ়ে। আমেরিকার লক্ষ্য, ইরানকে আর্থিক এবং সামরিক দিক থেকে এতটাই দুর্বল করে দেওয়া, যাতে তারা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না-পারে। সেই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক স্তরে দুই দেশের সংঘর্ষ থামাতে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে হরমুজ়ের তীরে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
US-Iran Conflict Oil Tanker

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy