আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে পড়ুয়ার মৃত্যু। রাজস্থানের জয়পুরের এক বেসরকারি কলেজের সাত তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন তরুণী পড়ুয়া। সেই কলেজ থেকে এমবিএ করছিলেন তরুণী। ছিলেন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পিটিআই সূত্রে খবর, শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ তরুণীকে কলেজের সাত তলা ভবনের কিনারায় বসে থাকতে দেখেন সহপাঠীরা। তাঁরা আটকাতে যাওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। সেখান থেকে ঝাঁপ দেন তরুণী। নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। মর্মান্তিক সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তরুণীর নাম যশস্বী রোহিলা। বয়স ২৩। তিনি জয়পুরের গূর্জর কী থড়ী এলাকার বাসিন্দা। তরুণীর বাবা মারা গিয়েছেন। বাড়িতে মায়ের সঙ্গেই থাকতেন যশস্বী। কিন্তু কেন তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এ বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। পুলিশ তাঁর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেছে। কিন্তু এখনও তরুণীর মৃত্যুর কোনও কারণ সামনে আসেনি। শনিবার তাঁর পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার মুখে যশস্বীর কাছে একটি ফোন আসে। এর পরই নাকি তাঁকে কলেজের সাত তলার ছাদের ধারে বসে থাকতে দেখা যায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ শনিবারের পরীক্ষা স্থগিত করেন। তরুণীর মোবাইল এবং ব্যাগ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
‘ইয়াদুভিরসিএইচ০০৭৩’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, ছাদের ধারে পা ঝুলিয়ে বসে রয়েছেন তরুণী। বন্ধুরা তাঁকে নেমে আসার আর্জি জানাচ্ছেন। ভিডিয়োয় শোনা গিয়েছে, এক তরুণী যশস্বীকে চিৎকার করে বলছেন, ‘‘তুই পাগল হয়ে গিয়েছিস?’’ তরুণী ছাদের ধারে বসে বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে আর নেমে আসেননি। সংশ্লিষ্ট পোস্টের অপর এক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অসাঢ় অবস্থায় নীচে পড়ে রয়েছেন তরুণী। নড়াচড়া করছেন না। তরুণীর অবস্থা দেখে আন্দাজ করা যাচ্ছে যে তাঁর দেহে আর প্রাণ নেই। তিন নম্বর ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তরুণীর দেহ মেঝে থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পড়ুয়া এবং কলেজের অন্যান্যরা একত্রে সে কাজ করছেন। তিনটি ভিডিয়োই প্রচুর নেটাগরিকের নজর কেড়েছে। মন্তব্যবাক্সে শোকপ্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআইটি বম্বের এনার্জি সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের ঝুলন্ত দেহ তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয় দেশ জুড়ে। সাহিলের মৃত্যুর ফলে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইআইটিরই প্রাক্তনীর করা তথ্যের অধিকার আইনে একটি আবেদনে (আরটিআই) দেখা যায় আইআইটির অন্ধকার দিক। ওই তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০ বছরে দেশের বিভিন্ন আইআইটি ক্যাম্পাসে মোট ১৭১টি আত্মহত্যা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। আইআইটি ছাড়া দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পড়ুয়াদের আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ছে বললে অত্যুক্তি করা হবে না। এটি বর্তমান তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।