এক পুরুষের ক্ষেত্রে রাত দু’টোর সময় ক্যাবযাত্রা হয়তো আর পাঁচটা সাধারণ যাত্রার থেকে আলাদা কিছু নয়। কিন্তু, অনেক নারীর কাছেই এর অর্থ হল, মাত্রাতিরিক্ত সজাগ থাকা, সব দিকে নজর রাখা। যেমন - গাড়িটি কোথায় মোড় ঘোরাচ্ছে, চালক ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছেন কি না ইত্যাদি। গন্তব্যে ঠিকঠাক না পৌঁছোনো পর্যন্ত এই পর্ব চলতে থাকে। কিন্তু, অপূর্বা নামে এক তরুণী জানিয়েছেন, রাতে মুম্বই পৌঁছোনোর পর ক্যাব ভাড়া করে নিজেকে ‘পুরুষের মতো’ মনে হয়েছে তাঁর। রাতের ক্যাবযাত্রায় কোনও অজানা ভয় বা আশঙ্কার বোঝা বহন করতে হয়নি তাঁকে।
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে নিজের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন অপূর্বা। জানিয়েছেন, তাঁর এই নিরাপদ বোধ করার কারণ হলেন, তাঁর বুক করা ক্যাবের মহিলা চালক। সেই অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে অপূর্বা বলেছেন, ‘‘বিষয়টি অপ্রত্যাশিত। আজ আমার মনে হয়েছে, আমি যেন এক জন পুরুষ।’’ কিন্তু, কেন এমন কথা বলেছেন অপূর্বা? কারণ হিসেবে তরুণী জানিয়েছেন, ওই যাত্রায় কোনও নাটকীয় ঘটনা ঘটেনি। এটি ছিল একে বারেই সাধারণ একটি যাত্রা। আর, সেই ‘সাধারণ’ বিষয়টিই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
নিজের ইনস্টাগ্রাম ভিডিয়োতে অপূর্বা বলেন, ‘‘ওই যাত্রার সময় আমি ভুলেই গিয়েছিলাম আমার নিরাপত্তা নিয়ে দুচিন্তার কথা।’’ তরুণী জানিয়েছেন, যাত্রা করার সময় তাঁকে বার বার ফোনের দিকে তাকাতে হয়নি কিংবা পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলার ভান করতে হয়নি। তাঁর উপর কেউ নজরও রাখছিল না। বরং, কোনও ধরনের সতর্কতামূলক পরিকল্পনা মাথায় না রেখেই তিনি নিশ্চিন্তে যাত্রাটি উপভোগ করতে পেরেছেন।
অপূর্বা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার এই অনুভূতি তাঁকে ভাবতে বাধ্য করেছে যে, রাতের শহরে চলাফেরার অর্থ আসলে কী! তাঁর এই তুলনার উদ্দেশ্য এমন নয় যে, পুরুষরা কখনও ভয় পান না, বা অসহায় বোধ করেন না। বরং, বিষয়টি হল, অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ক্যাব যাত্রার সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য বাড়তি কোনও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু, এক জন মহিলার ক্ষেত্রে সব সময় তেমনটা হয় না। অপূর্বা ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘‘এর মানে এই নয় যে পুরুষেরা কখনও ভয় পান না, বা অসহায় বোধ করেন না। আমিও এ ক্ষেত্রে সেই আভাস পেয়েছি যে, নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় হিসেব-নিকেশ না করে পৃথিবীতে চলাফেরা করা কেমন হয়।’’
আরও পড়ুন:
অপূর্বার বার্তা সহজ। মহিলাদের প্রায়শই এমন সব বিপদের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হয়, যা আসলে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হওয়ার কথা নয়। ক্যাবে ওঠা, একা ভ্রমণ করা কিংবা বাড়ি ফেরার পথে ক্যাবে ঘুমিয়ে পড়ার মতো বিষয়গুলির পিছনে এমন অনেক হিসেব-নিকেশ কষতে হয় তাঁদের, যা হয়তো অন্যদের চোখে পড়ে না। অপূর্বা লিখেছেন, ‘‘কখনও কখনও স্বাধীনতা মানে কেবল ভয় না পেয়ে বেঁচে থাকা। আর, এই সুযোগ সবাই সমান ভাবে পায় না।’’
আরও পড়ুন:
অপূর্বার সেই ভিডিয়োটি ভাইরাল হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। এক জন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “এটি এমন এক গভীর বিষয়কে তুলে ধরেছে, যা আমাদের মতো পুরুষদের খুব একটা ভেবে দেখতে হয় না।’’