Advertisement
E-Paper

মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ পরামর্শের পরেই ইরানে হামলা থামালেন ট্রাম্প? বার্তা গিয়েছে তেহরান থেকেও

আমেরিকার সামরিক বাহিনীর যুগ্ম চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১১:০৩
ইরানে হামলা চালানো সাময়িক ভাবে থামিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানে হামলা চালানো সাময়িক ভাবে থামিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইরানে ১৩ দিন টানা হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। শুক্রবার রাতের দিকে তা বন্ধ হয়েছে। শনিবারও নতুন করে কোনও হামলা হয়নি। ফলে আপাতত কিছুটা শান্ত পশ্চিম এশিয়া। আমেরিকা হামলা বন্ধ করার পর প্রাথমিক ভাবে থেমেছে ইরানও। কিন্তু কেন হঠাৎ মার্কিন সেনাবাহিনীকে থামার নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প? সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, বাহিনীর তরফেই প্রেসিডেন্টকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তার পর হামলা থামানোর সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।

সূত্রের খবর, আমেরিকার সামরিক বাহিনীর যুগ্ম চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে প্রেসিডেন্টকে তিনি হামলায় সাময়িক বিরতির পরামর্শ দেন। জানান, তা না-হলে অস্ত্রভান্ডারে টান পড়তে পারে। অর্থাৎ, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার যা অস্ত্রভান্ডার, যে সমস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হয়, তার ভান্ডারে টান পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেইন। যদিও আমেরিকার সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত স্তরে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক কথাই বলে থাকেন সেনাকর্তারা। কিন্তু নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কারণে তা প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়।

অন্য দিকে, ইরান থেকেও পৃথক বার্তা গিয়েছে আমেরিকায়। রয়টার্স এক ইরানি আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, আমেরিকা হামলা না-চালালে ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় আর কোনও আঘাত করবে না। আপাতত সেটাই তেহরানের অবস্থান। তবে নতুন করে হামলা চালানো হলে ইরানের বাহিনী চুপ করে বসে থাকবে না। এই বার্তা কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকার আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্ট্‌জ় সংবাদমাধ্যমে জানান, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগোনোর কিছুটা সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন ট্রাম্প। তাই হামলা বন্ধ রেখেছেন। তবে আরও কোনও তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

হরমুজ় প্রণালীতে একের পর এক পণ্যবাহী জাহাজে হামলার প্রতিবাদে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু করেছিল আমেরিকা। সংঘর্ষবিরতির চুক্তি আগেই ভেঙে গিয়েছে। মার্কিন আক্রমণের জবাবে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশকে নিশানা করে তেহরানও। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরিন, ওমানের মতো দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। সূত্রের দাবি, ইরানের কোথায় কোথায় হামলা চালানো হবে, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল ওয়াশিংটন। তার সবগুলিতেই হামলা হয়ে গিয়েছে। আক্রমণ থামানোর সেটাও একটা কারণ হতে পারে বলে মত মার্কিন আধিকারিকদের।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
Donald Trump US Iran US Iran Peace Deal West Asia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy