Advertisement
E-Paper

২৩ বছর পরে ইরাক থেকে পাততাড়ি গোটাল আমেরিকা! ইরানের পড়শি দেশ থেকে কেন সেনা সরিয়ে নিলেন ট্রাম্প?

সাদ্দাম হুসেনের সরকারের পতন ঘটাতে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। সেই সময় থেকেই ইরাকের মাটিতে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি ছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:২৮
ইরাকে মার্কিন সেনা।

ইরাকে মার্কিন সেনা। ছবি: এএফপি।

২৩ বছরের যুদ্ধে মার্কিন ডলারের নিরিখে মোট খরচ ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি। প্রাপ্তি শূন্য!

শেষপর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আবহে ইরাক থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করল আমেরিকা। বুধবার উত্তর ইরাকের কুর্দ স্বশাসিত এলাকায় শেষ বড় সামরিক ঘাঁটি এরবিল এয়ার বেস থেকে পাততাড়ি গোটাল পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় ওয়াশিংটন সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল বাগদাদের সঙ্গে। সেই চুক্তিরই এ বার বাস্তবায়ন হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে ট্রাম্প স্বয়ং সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদির পাশে‌ বসে বলেছিলেন, ‘‘আমরা মনে করি না যে, ওখানে আমাদের আর সামরিক বাহিনী রাখার প্রয়োজন আছে। ওখানে আমাদের এক জন চ্যাম্পিয়ন আছে।’’ ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরেই ইরাকের মাটিতে মসুল, কিরকুক, বডরা বা নাসিরিয়ার মতো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও অস্ত্রশস্ত্র সরানোর কাজ শুরু হয়েছিল। আল-আনওয়ার মরুভূমির আল-আসাদ বিমানঘাঁটি বা রাজধানী বাগদাদের উপকণ্ঠে ক্যাম্প ভিক্টোরিতে স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনার তৎপরতা।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশিত খবরে দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ফৌজের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রথম দুই মাসে ইরান সেনা এবং তাঁদের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ৬০০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে। চলতি মাসে ট্রাম্প নতুন করে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দেওয়ার পরেই ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স) প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ইরাকে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার মোবিলাইজ়েশন ফোর্স’ (এমপিএফ) এবং ইরান ফৌজের এলিট বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড’-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গঠিত কাতেইব হিজ়বুল্লা আগামী দিনে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদে দাবি করা হয়েছিল। দু’টি সংগঠনই ইরাক-কেন্দ্রিক এবং ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয়।

শুধু মার্কিন সেনাঘাঁটি নয় পশ্চিম এশিয়ার আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক সহযোগী সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনেও তারা হামলা চালাতে পরে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। বর্তমানে ইরাকের মাটিতে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ১০ হাজারেরও বেশি যোদ্ধা রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে দ্বিমুখী লড়াইয়ে জড়িয়ে যাওয়া সম্ভাবনা ছিল বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা। তাঁদের মতে, সেই আশঙ্কা থেকেই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প। ইরাকি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা চলে গেলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আরও সক্রিয় হতে পারে ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। ‘ইরাকি ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’-এর কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি সম্প্রতি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে দাবি করেছেন।

এর পাশাপাশি ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদির সরকার যে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু করেছিল, ট্রাম্প সরকার তার প্রতি আস্থা রেখেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি খবরে দাবি করা হয়েছে। ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদ মান মঙ্গলবার বলেন, ‘‘শান্তিবৈঠকের জেরে ইতিমধ্যেই কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র জমা দিয়েছে এবং অন্যদের অনেকেই অস্ত্র সমর্পণের পরিকল্পনা করছে।’’ প্রসঙ্গত, সাদ্দাম হুসেন সরকারের পতন ঘটাতে ২০০৩ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। সেই সময় থেকেই ইরাকের মাটিতে তাদের উপস্থিতি ছিল। এর পর ধারাবাহিক ভাবে ইরাকে আল কায়েদা, আইএস এবং ইরানপন্থী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হয়েছে মার্কিন বাহিনীকে। দু’দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতপর্বে প্রায় ৪,৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরান পরিস্থিতির চাপেই ইরাক থেকে সরতে হল মার্কিন ফৌজকে।

সংক্ষেপে
  • ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
  • আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
  • শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
US forces Iraq US-Iran Conflict US Army Pentagon

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy